সরকারের জারি করা সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংসদীয় বিশেষ কমিটির বাতিলের সুপারিশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), রাজস্ব খাতের কাঠামো, বেসামরিক বিমান চলাচল এবং মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন সংক্রান্ত আইন।
দুদক সংক্রান্ত সংশোধিত অধ্যাদেশে কমিশনের সদস্য সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ করা এবং মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর নির্ধারণ করা হয়। এতে অন্তত একজন নারী ও একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ কমিশনার রাখার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের সদস্যদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবেন। পাশাপাশি প্রতি ছয় মাস অন্তর দুদকের কার্যক্রম প্রকাশ এবং কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে দুদককে। তবে এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের সুপারিশ পেয়েছে।
রাজস্ব খাতে বড় পরিবর্তন এনে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এনবিআরের ৫০ বছরের ইতিহাসে বড় ধরনের প্রশাসনিক বিভাজন। এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের তালিকায় রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে স্বচ্ছতা আনতে জারি করা ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এ বিমান ভাড়া নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা পর্ষদ গঠনের কথা বলা হয়। এয়ার অপারেটরদের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়ার তালিকা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয় এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলে কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করতে পারবে। বিদেশি এয়ারলাইন্সকে বাংলাদেশে অফিস স্থাপন বা স্থানীয় জিএসএ নিয়োগের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের সুপারিশ পেয়েছে।
অন্যদিকে ‘মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুযোগ বাড়ানো এবং অবৈধ পাচার রোধে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়। এতে অঙ্গদাতার পরিধি কিছুটা সম্প্রসারণ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি রয়েছে। ফলে এটিও বাতিলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।।




















