০৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

চিরতরে চলে গেলেন ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ খ্যাত রাহুল

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:২৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৫২২

বিনোদন ডেস্ক:
টালিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিনোদন অঙ্গন। রোববার (২৯ মার্চ) ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী তালসারি সমুদ্র সৈকতে একটি নাটকের শুটিং চলাকালীন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪২ বছর।
শুটিং ইউনিট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সমুদ্র সৈকতে দৃশ্যায়নের সময় হঠাৎ করেই উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে পানিতে তলিয়ে যান রাহুল। সহকর্মী ও টেকনিশিয়ানরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী সোমাশ্রী চাকি কান্নায় ভেঙে পড়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগেও তাঁরা হাসিখুশি মনে একসঙ্গে কাজ করেছেন। আজই তাঁদের কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। বিয়োগান্তক এই ঘটনার আগে রাহুল মজার ছলে সোমাশ্রীকে বলেছিলেন, “আর দেখা হবে না আমাদের”— রসিকতা করে বলা সেই কথাই যে নির্মম সত্য হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

১৯৮৩ সালে জন্মগ্রহণকারী রাহুলের রক্তে মিশে ছিল অভিনয়। বাবা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে থিয়েটারের মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া এই পথচলা ২০০৮ সালে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার মাধ্যমে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পায়। গত দুই দশকে বড় পর্দা ছাড়াও ওটিটি এবং টেলিভিশন ধারাবাহিকে নিজের অভিনয়ের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের কাজ করছিলেন। এছাড়া ‘হরগৌরী পাইস হোটেল’ এবং পডকাস্ট শো ‘অভিনয় ছাড়া সহজ কথা’র মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন।

রাহুলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল সবসময় আলোচনায়। অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে বিয়ের পর সম্পর্কের টানাপোড়েন চললেও একমাত্র পুত্র ‘সহজ’-এর কথা চিন্তা করে তাঁরা পুনরায় একসঙ্গে সংসার শুরু করেছিলেন। বাবার অকাল চলে যাওয়ায় সেই ছোট সহজের মাথায় পাহাড় সমান শোক নেমে এল।
রাহুলের এই বিদায় দুই বাংলার চলচ্চিত্র ও নাট্যবোদ্ধাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর অসংখ্য ভক্ত এবং সহকর্মীরা প্রিয় এই শিল্পীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন।

সর্বাধিক পঠিত

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে: রাশিয়ার পক্ষে লড়তে গিয়ে প্রাণ গেল মৌলভীবাজারের তরুণের

চিরতরে চলে গেলেন ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ খ্যাত রাহুল

আপডেট: ০৮:২৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক:
টালিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিনোদন অঙ্গন। রোববার (২৯ মার্চ) ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী তালসারি সমুদ্র সৈকতে একটি নাটকের শুটিং চলাকালীন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪২ বছর।
শুটিং ইউনিট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সমুদ্র সৈকতে দৃশ্যায়নের সময় হঠাৎ করেই উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে পানিতে তলিয়ে যান রাহুল। সহকর্মী ও টেকনিশিয়ানরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী সোমাশ্রী চাকি কান্নায় ভেঙে পড়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগেও তাঁরা হাসিখুশি মনে একসঙ্গে কাজ করেছেন। আজই তাঁদের কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। বিয়োগান্তক এই ঘটনার আগে রাহুল মজার ছলে সোমাশ্রীকে বলেছিলেন, “আর দেখা হবে না আমাদের”— রসিকতা করে বলা সেই কথাই যে নির্মম সত্য হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

১৯৮৩ সালে জন্মগ্রহণকারী রাহুলের রক্তে মিশে ছিল অভিনয়। বাবা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে থিয়েটারের মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া এই পথচলা ২০০৮ সালে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার মাধ্যমে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পায়। গত দুই দশকে বড় পর্দা ছাড়াও ওটিটি এবং টেলিভিশন ধারাবাহিকে নিজের অভিনয়ের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের কাজ করছিলেন। এছাড়া ‘হরগৌরী পাইস হোটেল’ এবং পডকাস্ট শো ‘অভিনয় ছাড়া সহজ কথা’র মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন।

রাহুলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল সবসময় আলোচনায়। অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে বিয়ের পর সম্পর্কের টানাপোড়েন চললেও একমাত্র পুত্র ‘সহজ’-এর কথা চিন্তা করে তাঁরা পুনরায় একসঙ্গে সংসার শুরু করেছিলেন। বাবার অকাল চলে যাওয়ায় সেই ছোট সহজের মাথায় পাহাড় সমান শোক নেমে এল।
রাহুলের এই বিদায় দুই বাংলার চলচ্চিত্র ও নাট্যবোদ্ধাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর অসংখ্য ভক্ত এবং সহকর্মীরা প্রিয় এই শিল্পীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন।