নড়াইল সদরে জ্বালানি তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক চালকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাকচালক সুজাত আলী মোল্যাকে (৫০) যশোরের বাঘারপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত সুজাত আলী নড়াইল সদরের তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের ছাইদুর রহমান ওরফে তহিদুর মোল্যার ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৮ মার্চ) মধ্যরাতে নড়াইল সদরের তুলারামপুর এলাকায় ‘তানভীর ফিলিং স্টেশনে’ তেল নিতে আসেন চালক সুজাত আলী। তেল দেওয়া নিয়ে পাম্পের ম্যানেজার নাহিদ সরদারের সঙ্গে তার তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সুজাত প্রকাশ্যে ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাম্পের কাজ শেষ করে নাহিদ তার বন্ধু জিহাদুল মোল্যাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এসময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা ঘাতক ট্রাকটি দ্রুত গতিতে তাদের ধাওয়া করে এবং সজোরে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান নাহিদ সরদার। গুরুতর আহত অবস্থায় তার বন্ধু জিহাদুলকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘাতক চালক পলাতক ছিলেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় নড়াইল ও যশোর জেলা পুলিশ এবং র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে।
: রোববার দুপুরে নাভারণ হাইওয়ে থানা পুলিশ যশোরের বেনাপোল ট্রাক টার্মিনাল থেকে ঘাতক ট্রাকটি (যশোর-ট-১১-৬০৪০) জব্দ করে।
: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদপুর এলাকা থেকে চালক সুজাত আলীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬।
নিহত নাহিদ সরদার নড়াইল সদরের পেড়লী গ্রামের মৃত আকরাম সরদারের ছেলে। এই ঘটনায় তার চাচা ও পাম্পের মালিক মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় সুজাত মোল্যাকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
তেল না পেয়ে এমন নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের সহকর্মী ও এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




















