০৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বেনাপোলে জ্বালানি হাহাকার: তেলের জন্য পাম্পে পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৩:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৫

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের সীমান্ত শহর বেনাপোল ও শার্শা উপজেলার জ্বালানি তেলের বাজার এখন নিয়ন্ত্রণহীন। গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র সংকটে পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে তেলের জন্য হাহাকার। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে বেনাপোলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় এতটাই বেড়েছে যে, লাইনের শেষ প্রান্ত খুঁজে পাওয়া দায় হয়ে পড়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট সংলগ্ন ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে নাভারণ-সাতক্ষীরা মোড় পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি পাম্পেই একই চিত্র। ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ তলানিতে নামায় অধিকাংশ পাম্পে ঝুলছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড। হাতেগোনা যে দুই-একটি পাম্পে তেল মিলছে, সেখানে মানুষের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
লাইনের দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক রাজু আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল থেকে তেলের খোঁজে শহরের সব পাম্প ঘুরেছি। শেষ পর্যন্ত এখানে লাইনে দাঁড়ালেও কয়েক ঘণ্টা পর শুনতে পাচ্ছি তেল শেষ। এখন বাইক ঠেলে বাড়ি নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।”

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পার্শ্ববর্তী জেলা নড়াইলে তেল না পেয়ে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনার পর থেকে পাম্প কর্মীদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক কাজ করছে। বেনাপোলেও তেলের দীর্ঘ লাইনে থাকা উত্তেজিত গ্রাহকদের সাথে পাম্প কর্মীদের প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। নিরাপত্তা শঙ্কায় অনেক পাম্প মালিক নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বিক্রি বন্ধ করে দিচ্ছেন।

পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে তেলের বরাদ্দ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। চাহিদার অর্ধেক তেলও মিলছে না। ফলে কেবল ব্যক্তিগত যানবাহন নয়, বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক এবং স্থানীয় ইজিবাইকগুলোও জ্বালানি সংকটে স্থবির হয়ে পড়ছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পুরো সীমান্ত এলাকার পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: শার্শা ও বেনাপোল এলাকার সাধারণ মানুষ এবং চালক সমাজ দ্রুত এই সংকট নিরসনে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টহল জোরদার করার দাবিও জানিয়েছেন পাম্প মালিকরা।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে সাংবাদিককে হুমকির পর ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক: ‘অনিয়মকারী নিজ দলের হলেও ছাড় নয়’

বেনাপোলে জ্বালানি হাহাকার: তেলের জন্য পাম্পে পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন

আপডেট: ১১:১৩:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের সীমান্ত শহর বেনাপোল ও শার্শা উপজেলার জ্বালানি তেলের বাজার এখন নিয়ন্ত্রণহীন। গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র সংকটে পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে তেলের জন্য হাহাকার। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে বেনাপোলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় এতটাই বেড়েছে যে, লাইনের শেষ প্রান্ত খুঁজে পাওয়া দায় হয়ে পড়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট সংলগ্ন ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে নাভারণ-সাতক্ষীরা মোড় পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি পাম্পেই একই চিত্র। ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ তলানিতে নামায় অধিকাংশ পাম্পে ঝুলছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড। হাতেগোনা যে দুই-একটি পাম্পে তেল মিলছে, সেখানে মানুষের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
লাইনের দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক রাজু আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল থেকে তেলের খোঁজে শহরের সব পাম্প ঘুরেছি। শেষ পর্যন্ত এখানে লাইনে দাঁড়ালেও কয়েক ঘণ্টা পর শুনতে পাচ্ছি তেল শেষ। এখন বাইক ঠেলে বাড়ি নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।”

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পার্শ্ববর্তী জেলা নড়াইলে তেল না পেয়ে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনার পর থেকে পাম্প কর্মীদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক কাজ করছে। বেনাপোলেও তেলের দীর্ঘ লাইনে থাকা উত্তেজিত গ্রাহকদের সাথে পাম্প কর্মীদের প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। নিরাপত্তা শঙ্কায় অনেক পাম্প মালিক নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বিক্রি বন্ধ করে দিচ্ছেন।

পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে তেলের বরাদ্দ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। চাহিদার অর্ধেক তেলও মিলছে না। ফলে কেবল ব্যক্তিগত যানবাহন নয়, বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক এবং স্থানীয় ইজিবাইকগুলোও জ্বালানি সংকটে স্থবির হয়ে পড়ছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পুরো সীমান্ত এলাকার পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: শার্শা ও বেনাপোল এলাকার সাধারণ মানুষ এবং চালক সমাজ দ্রুত এই সংকট নিরসনে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টহল জোরদার করার দাবিও জানিয়েছেন পাম্প মালিকরা।