০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

স্কয়ার হাসপাতালে ডা. ডোরার মৃত্যু: চিকিৎসকের অবহেলা ও বিচারের দাবিতে যশোরে সংবাদ সম্মেলন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:০৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ৫৬০

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডা. চাঁদ সুলতানা ডোরার মৃত্যুতে চিকিৎসকের চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্বজনরা এই অভিযোগ করেন এবং দায়ী চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের কঠোর বিচার দাবি করেন।:
সংবাদ সম্মেলনে ডা. ডোরার মা শিরিন সৈয়দা বেগম জানান, গত ২৯ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ডা. ডোরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সে সময় তিনি উচ্চ জ্বর, বমি, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শুরুতে চিকিৎসকরা গর্ভের সন্তানের হার্টবিট স্বাভাবিক বলে আশ্বস্ত করলেও পরবর্তীতে আল্ট্রাসনোগ্রামে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরিবারের দাবি, জরুরি অবস্থার কথা জানানো সত্ত্বেও দায়িত্বরত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রেহনুমা জাহান রাতে রোগীকে দেখতে আসেননি। ভর্তির প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সকালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য রোগী পরিদর্শন করেন। কোনো প্রকার পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষা বা ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়াই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
নিহতের স্বামী ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়া সত্ত্বেও সময়মতো আইসিইউ (ICU) বা এইচডিইউ (HDU) সাপোর্ট দেওয়া হয়নি। এমনকি গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দিতে দীর্ঘ বিলম্ব করা হয়েছে। একজন চিকিৎসক হয়েও তিনি যদি এমন অবহেলার শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
তিন দফা দাবি:
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়:
১. অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রেহনুমা জাহানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দলের অবহেলার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার।
৩. অভিযুক্ত চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল করা।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. ডোরার বাবা মানসুর উদ্দিন, স্বামী ডা. নজরুল ইসলাম, চাচা শেখ নিজাম উদ্দিন সুইট, মামা ফিরোজ উদ্দিন এবং এস এম শামীম এজাজসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বাধিক পঠিত

ইসরাফিল সরদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি, বেনাপোলে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

স্কয়ার হাসপাতালে ডা. ডোরার মৃত্যু: চিকিৎসকের অবহেলা ও বিচারের দাবিতে যশোরে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: ০৩:০৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডা. চাঁদ সুলতানা ডোরার মৃত্যুতে চিকিৎসকের চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্বজনরা এই অভিযোগ করেন এবং দায়ী চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের কঠোর বিচার দাবি করেন।:
সংবাদ সম্মেলনে ডা. ডোরার মা শিরিন সৈয়দা বেগম জানান, গত ২৯ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ডা. ডোরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সে সময় তিনি উচ্চ জ্বর, বমি, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শুরুতে চিকিৎসকরা গর্ভের সন্তানের হার্টবিট স্বাভাবিক বলে আশ্বস্ত করলেও পরবর্তীতে আল্ট্রাসনোগ্রামে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরিবারের দাবি, জরুরি অবস্থার কথা জানানো সত্ত্বেও দায়িত্বরত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রেহনুমা জাহান রাতে রোগীকে দেখতে আসেননি। ভর্তির প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সকালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য রোগী পরিদর্শন করেন। কোনো প্রকার পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষা বা ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়াই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
নিহতের স্বামী ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়া সত্ত্বেও সময়মতো আইসিইউ (ICU) বা এইচডিইউ (HDU) সাপোর্ট দেওয়া হয়নি। এমনকি গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দিতে দীর্ঘ বিলম্ব করা হয়েছে। একজন চিকিৎসক হয়েও তিনি যদি এমন অবহেলার শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
তিন দফা দাবি:
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়:
১. অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রেহনুমা জাহানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দলের অবহেলার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার।
৩. অভিযুক্ত চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল করা।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. ডোরার বাবা মানসুর উদ্দিন, স্বামী ডা. নজরুল ইসলাম, চাচা শেখ নিজাম উদ্দিন সুইট, মামা ফিরোজ উদ্দিন এবং এস এম শামীম এজাজসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।