১১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোর-নড়াইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে ভয়াবহ আগুন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ৬০২

দৌলতদিয়ার মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার যশোর-নড়াইল মহাসড়কে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যশোর থেকে ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী পরিবহনে চলন্ত অবস্থায় আগুন লেগে বাসটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়ার উপক্রম হয়। তবে বাসে থাকা যাত্রীদের দ্রুত তৎপরতায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাসটি সদর উপজেলার ফতেপুর নামক স্থানে পৌঁছালে হঠাৎ বিপত্তি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি তখন বেশ গতিতে চলছিল। হঠাৎ ইঞ্জিনের সামনের দিক থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া আগুনের লেলিহান শিখায় পরিণত হয় এবং পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে।
যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক
আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসের ভেতরে ধোঁয়া ঢুকে পড়ায় অনেকে শ্বাসকষ্টে ভোগেন এবং হুড়োহুড়ি করে জানালা ও দরজা দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রী জানান, “আগুন এত দ্রুত ছড়িয়েছে যে আমরা ঠিকমতো মালামাল বের করার সুযোগ পাইনি। প্রাণে বেঁচে ফিরেছি এটাই বড় কথা।”

খবর পাওয়ার পরপরই যশোর ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা কঠোর প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার কর্মীরা। ততক্ষণে বাসটির ভেতরের আসন ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মহাসড়কে এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিন ‘ওভারহিটিং’ বা অতিরিক্ত উত্তপ্ত হওয়ার কারণেই এই আগুনের সূত্রপাত।
বর্তমানে ঈদের মৌসুম চলায় বাসের অতিরিক্ত চাহিদা রয়েছে। বাড়তি আয়ের আশায় অনেক সময় পরিবহন শ্রমিকরা ইঞ্জিনকে কোনো বিরতি না দিয়ে দিন-রাত একটানা গাড়ি চালাচ্ছেন। এর ফলে ইঞ্জিনে মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইঞ্জিনের উচ্চ তাপমাত্রা থেকে শর্ট সার্কিট বা লুব্রিকেন্ট লাইনে লিক হয়ে এই ভয়াবহ আগুনের সৃষ্টি হয়েছে।
সতর্কতা: যান্ত্রিক ত্রুটি এড়াতে এবং ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ট্রিপের আগে বাসের ফিটনেস এবং ইঞ্জিন পরীক্ষা করার জন্য পরিবহন মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

সর্বাধিক পঠিত

বড় আঁচড়ায় পঞ্চম দিনের গণসংযোগে ইমদাদুল হক ইমদাদ

যশোর-নড়াইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে ভয়াবহ আগুন

আপডেট: ০৭:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

দৌলতদিয়ার মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার যশোর-নড়াইল মহাসড়কে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যশোর থেকে ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী পরিবহনে চলন্ত অবস্থায় আগুন লেগে বাসটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়ার উপক্রম হয়। তবে বাসে থাকা যাত্রীদের দ্রুত তৎপরতায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাসটি সদর উপজেলার ফতেপুর নামক স্থানে পৌঁছালে হঠাৎ বিপত্তি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি তখন বেশ গতিতে চলছিল। হঠাৎ ইঞ্জিনের সামনের দিক থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া আগুনের লেলিহান শিখায় পরিণত হয় এবং পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে।
যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক
আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসের ভেতরে ধোঁয়া ঢুকে পড়ায় অনেকে শ্বাসকষ্টে ভোগেন এবং হুড়োহুড়ি করে জানালা ও দরজা দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রী জানান, “আগুন এত দ্রুত ছড়িয়েছে যে আমরা ঠিকমতো মালামাল বের করার সুযোগ পাইনি। প্রাণে বেঁচে ফিরেছি এটাই বড় কথা।”

খবর পাওয়ার পরপরই যশোর ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা কঠোর প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার কর্মীরা। ততক্ষণে বাসটির ভেতরের আসন ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মহাসড়কে এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিন ‘ওভারহিটিং’ বা অতিরিক্ত উত্তপ্ত হওয়ার কারণেই এই আগুনের সূত্রপাত।
বর্তমানে ঈদের মৌসুম চলায় বাসের অতিরিক্ত চাহিদা রয়েছে। বাড়তি আয়ের আশায় অনেক সময় পরিবহন শ্রমিকরা ইঞ্জিনকে কোনো বিরতি না দিয়ে দিন-রাত একটানা গাড়ি চালাচ্ছেন। এর ফলে ইঞ্জিনে মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইঞ্জিনের উচ্চ তাপমাত্রা থেকে শর্ট সার্কিট বা লুব্রিকেন্ট লাইনে লিক হয়ে এই ভয়াবহ আগুনের সৃষ্টি হয়েছে।
সতর্কতা: যান্ত্রিক ত্রুটি এড়াতে এবং ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ট্রিপের আগে বাসের ফিটনেস এবং ইঞ্জিন পরীক্ষা করার জন্য পরিবহন মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।