নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে ঘোড়ার মাংসকে ‘গরুর মাংস’ হিসেবে বিক্রি করার এক ভয়ংকর চক্রের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) সকালে উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের ১০ নম্বর সেক্টরের হারার বাড়ি এলাকার একটি নির্জন প্লট থেকে ৯টি জবাই করা এবং ১১টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একদল অসাধু ব্যবসায়ী পূর্বাচল উপশহরের ওই নির্জন স্থানে ২০টি ঘোড়া নিয়ে আসে জবাই করার উদ্দেশ্যে। শুক্রবার ভোরের দিকে তারা ৯টি ঘোড়া জবাই সম্পন্ন করে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে পূর্বাচল পুলিশ ফাঁড়ি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের সরঞ্জাম ও ঘোড়াগুলো ফেলে রেখে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।পূর্বাচল পুলিশ ফাঁড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ হারুন অর রশিদ জানান, অসাধু এই চক্রটি রাতের আঁধারে নির্জন স্থানে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস উপজেলার বিভিন্ন মাংসের দোকানে গরুর মাংস হিসেবে সরবরাহ করে আসছিল। তিনি বলেন:
> “কম দামে এই মাংস কিনে নিয়ে একশ্রেণির দোকানদার গরুর মাংস হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করছেন। আমরা ১১টি জীবিত এবং ৯টি জবাই করা ঘোড়া উদ্ধার করেছি।”
>
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এই জঘন্য প্রতারণা রোধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
এই ঘটনার পর রূপগঞ্জের স্থানীয় বাজারগুলোতে মাংস কেনা নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।





















