এক বছর আগে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল তাদের। সংসারের নতুন স্বপ্ন নিয়ে যাচ্ছিলেন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিয়ের সেই সাজানো স্বপ্ন শেষ হলো সাড়ে সাত ঘণ্টার যমযন্ত্রণা আর শীতল নদীর অতল গহ্বরে। দৌলতদিয়া ঘাটে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে নিহত ২৬ জনের মধ্যে রাজবাড়ীর সেই আলোচিত নবদম্পতি কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য (৩০) ও তার স্ত্রী জহুরা অন্তির (২৭) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজবাড়ী শহরের শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাজবাড়ী পৌরসভার নতুন বাজার কবরস্থানে স্বামী-স্ত্রীকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় পাশাপাশি দুটি কবরে।
নিহত সৌম্য রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা গ্রামের কাজী মুকুলের একমাত্র ছেলে। তার স্ত্রী জহুরা অন্তি একই এলাকার মৃত ডা. আব্দুল আলীমের মেয়ে এবং একজন মেধাবী মেডিকেল শিক্ষার্থী ছিলেন। জানাজায় উপস্থিত হয়ে সৌম্যর বড় চাচা কাজী গোলাম আহমেদ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:
> “এক বছর আগে নিজের হাতে ওদের বিয়ে দিয়েছিলাম। আমার সেজো ভাইয়ের একমাত্র ছেলে ও পুত্রবধূকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখেছি। আজ তাদের নিথর দেহ সামনে নিয়ে জানাজা পড়তে হচ্ছে—ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস!”
>
স্বজনরা জানান, ঈদের ছুটি শেষে এবং একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি বাসে করে ঢাকা ফিরছিলেন। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে ফেরির জন্য অপেক্ষমান ছিল বাসটি। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি দ্রুতবেগে পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় ৭ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বাসের ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।দৌলতদিয়া ঘাটের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সৌম্য ও অন্তির এই অকাল মৃত্যু রাজবাড়ী জেলাবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। জানাজায় অংশ নেওয়া হাজারো মানুষের চোখে ছিল জল আর শোকের স্তব্ধতা।
নিহত এই দম্পতির আত্মার মাগফেরাত কামনায় আজ সজ্জনকান্দা এলাকায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।





















