১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রণক্ষেত্র: ইমামসহ নিহত ২, আহত অর্ধশত

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ৫০৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধ ও গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক ইমামসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন:
১. গোয়ালনগর গ্রামের আক্তার মিয়া (৫০)
২. স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০)
:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এই ঘটনার পেছনে কাসেম গোষ্ঠীর শিশু মিয়ার হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করে আসছিল জিয়াউরের পক্ষ। সম্প্রতি জিয়াউর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে শিশু মিয়াকে মারধর ও তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিলে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
:
গত ১৮ মার্চ (মঙ্গলবার) এই দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের হাজারো মানুষ রামদা, টেঁটা ও বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। গোয়ালনগর ইউনিয়নের স্কুলপাড়া, দক্ষিণদিয়া, শিবপুরসহ প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে এই ৪ ঘণ্টাব্যাপী রণক্ষেত্রে অংশ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে রহিম গোষ্ঠীর আক্তার মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অন্যদিকে, ঝগড়া থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান। তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
:
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পূর্ব বিরোধের জেরেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। এলাকায় বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে স্টাইল বাজারের জমকালো র‍্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রণক্ষেত্র: ইমামসহ নিহত ২, আহত অর্ধশত

আপডেট: ০৬:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধ ও গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক ইমামসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন:
১. গোয়ালনগর গ্রামের আক্তার মিয়া (৫০)
২. স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০)
:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এই ঘটনার পেছনে কাসেম গোষ্ঠীর শিশু মিয়ার হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করে আসছিল জিয়াউরের পক্ষ। সম্প্রতি জিয়াউর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে শিশু মিয়াকে মারধর ও তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিলে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
:
গত ১৮ মার্চ (মঙ্গলবার) এই দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের হাজারো মানুষ রামদা, টেঁটা ও বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। গোয়ালনগর ইউনিয়নের স্কুলপাড়া, দক্ষিণদিয়া, শিবপুরসহ প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে এই ৪ ঘণ্টাব্যাপী রণক্ষেত্রে অংশ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে রহিম গোষ্ঠীর আক্তার মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অন্যদিকে, ঝগড়া থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান। তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
:
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পূর্ব বিরোধের জেরেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। এলাকায় বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।