০২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

বেনাপোলে পাসপোর্টযাত্রীর টাকা ছিনতাই: পুলিশের জালে প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:১৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৮

যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টে সুশান্ত কুমার মজুমদার নামে এক ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রীর টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. হামিদ: বেনাপোল পৌরসভার বড়আঁচড়া গ্রামের সলেমানের ছেলে।
২. আতিকুর রহমান: ভবারবেড় গ্রামের মতরেবের ছেলে।
৩. রুবেল হোসেন: একই গ্রামের শাহাজানের ছেলে।

ভুক্তভোগী সুশান্ত কুমার জানান, চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার ভোরে তিনি বেনাপোল চেকপোস্টে নামেন। বাস থেকে নামার পরপরই ৪-৫ জন যুবক তাকে ঘিরে ধরে এবং দ্রুত ইমিগ্রেশন কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জিম্মি করে তার কাছে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি বেনাপোল পোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও চেকপোস্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের পরোক্ষ ছত্রছায়ায় এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদেরা জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই চক্রটি কৌশল বদলে তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক এই বন্দর দিয়ে যাতায়াত করেন, যাদের বড় একটি অংশ এই চক্রের হাতে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।:
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় ছিনতাইয়ের সাথে বড়আঁচড়া গ্রামের বাবু, মারুফ, ছোটআঁচড়া গ্রামের সাগর এবং সাদিপুর গ্রামের এবাদতসহ বেশ কয়েকজন পেশাদার অপরাধী জড়িত। এছাড়া বিভিন্ন সুপার মার্কেটের আড়ালে শামীম, রবি, হৃদয়, শিমুল ও ইমরানের মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিনিয়ত এসব প্রতারক চক্রকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হলেও তারা জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন ট্যাক্স বা দ্রুত ইমিগ্রেশনের প্রলোভন দেখিয়ে যাত্রীদের নির্দিষ্ট ঘরে নিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশলটি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।:
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে স্টাইল বাজারের জমকালো র‍্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

বেনাপোলে পাসপোর্টযাত্রীর টাকা ছিনতাই: পুলিশের জালে প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য

আপডেট: ০৩:১৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টে সুশান্ত কুমার মজুমদার নামে এক ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রীর টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. হামিদ: বেনাপোল পৌরসভার বড়আঁচড়া গ্রামের সলেমানের ছেলে।
২. আতিকুর রহমান: ভবারবেড় গ্রামের মতরেবের ছেলে।
৩. রুবেল হোসেন: একই গ্রামের শাহাজানের ছেলে।

ভুক্তভোগী সুশান্ত কুমার জানান, চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার ভোরে তিনি বেনাপোল চেকপোস্টে নামেন। বাস থেকে নামার পরপরই ৪-৫ জন যুবক তাকে ঘিরে ধরে এবং দ্রুত ইমিগ্রেশন কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জিম্মি করে তার কাছে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি বেনাপোল পোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও চেকপোস্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের পরোক্ষ ছত্রছায়ায় এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদেরা জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই চক্রটি কৌশল বদলে তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক এই বন্দর দিয়ে যাতায়াত করেন, যাদের বড় একটি অংশ এই চক্রের হাতে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।:
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় ছিনতাইয়ের সাথে বড়আঁচড়া গ্রামের বাবু, মারুফ, ছোটআঁচড়া গ্রামের সাগর এবং সাদিপুর গ্রামের এবাদতসহ বেশ কয়েকজন পেশাদার অপরাধী জড়িত। এছাড়া বিভিন্ন সুপার মার্কেটের আড়ালে শামীম, রবি, হৃদয়, শিমুল ও ইমরানের মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিনিয়ত এসব প্রতারক চক্রকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হলেও তারা জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন ট্যাক্স বা দ্রুত ইমিগ্রেশনের প্রলোভন দেখিয়ে যাত্রীদের নির্দিষ্ট ঘরে নিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশলটি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।:
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।