যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের মটবাড়িয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজন এবং প্রতিপক্ষের একজনসহ মোট পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ ও আহতদের পরিচয়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মটবাড়িয়া গ্রামে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে আজ এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আহতরা হলেন:
* কোহিনুর বেগম (আহতদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর)
* হাসানুজ্জামান (কোহিনুর বেগমের ছেলে)
* নাঈম রেজা ও তাসনিম (কোহিনুর বেগমের দুই ভাতিজা)
* আব্দুর রহমান (প্রতিপক্ষ)
আহত কোহিনুর বেগমের ছোট ভাই ইঞ্জিনিয়ার কামাল আহমেদ অভিযোগ করে জানান, প্রতিবেশী আব্দুর রহমানদের সাথে তাদের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধের জেরে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক পরিচয় (বিএনপি) ব্যবহারকারী সাইফুল নামে এক ব্যক্তি ভাড়াটিয়া হিসেবে আব্দুর রহমানের পক্ষে এই হামলায় অংশ নেন। সাইফুলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কোহিনুর বেগমের পরিবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে দাবি করা হচ্ছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জুবায়ের জানিয়েছেন, আহত পাঁচজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন আশঙ্কামুক্ত হলেও কোহিনুর বেগমের অবস্থা কিছুটা সংকটজনক। তার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যার ফলে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
ঘটনাস্থল থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আল আমিন জানান:> “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আব্দুর রহমানের পক্ষ জমিটি পৈতৃক দাবি করছে, অন্যদিকে কোহিনুর বেগমের পক্ষ ক্রয়সূত্রে মালিকানা দাবি করছে। এই মালিকানা নিয়ে বিরোধের মধ্যেই সাইফুল নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। আমরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছি।”
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন না থাকলেও এক ধরণের থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















