যশোরে এক কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে অপহৃত ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে তিন দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। স্বামীকে জীবিত ফিরে পেতে এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরে এক মর্মস্পর্শী সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী রেশমা খাতুন। তিন সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মার্চ রাত ৯টার দিকে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় অবস্থিত নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আর আর মেডিকেল’ ও ‘জে আর এগ্রোভেট’ বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে ধর্মতলা সুজলপুরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন জাহাঙ্গীর আলম। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে গতিরোধ করে
অপহরণের পর রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীরের মায়ের ফোনে কল আসে। পরবর্তীতে স্ত্রী রেশমা খাতুনের কাছেও কল করে জানানো হয়, জাহাঙ্গীরকে জীবিত ফেরত পেতে হলে এক কোটি টাকা দিতে হবে। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রীর আকুতি
সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে রেশমা খাতুন বলেন:
> “আমার স্বামীর সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি সৎভাবে ব্যবসা করতেন। তিন দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। তিনি আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমি আমার স্বামীকে জীবিত ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
>
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরের মা জাহানারা খাতুন, দুই মেয়ে হৃদা ও রুপুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অবুঝ সন্তানদের চোখেমুখে বাবার জন্য প্রতীক্ষার ছাপ স্থানীয় সংবাদকর্মীদেরও ব্যথিত করে।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান:
> “বিষয়টি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে তথ্য-প্রযুক্তির সব ধরনের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুতই তার সন্ধান পাওয়া যাবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
>




















