আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ইসলামাবাদ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর পাকিস্তানজুড়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (১ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই দেশব্যাপী সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচিতে বিক্ষোভকারীরা সবচেয়ে বেশি সহিংস হয়ে ওঠে। সেখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের সামনে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট লক্ষ্য করে হামলা চালালে পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়লে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানায়, এই সংঘর্ষে আরও ৯৬ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
স্কারদুতে জাতিসংঘ কার্যালয়ে আগুন, ১১ জনের মৃত্যু
পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর স্কারদুতে সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানে অবস্থিত জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সেখানে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ইসলামাবাদ ও লাহোরসহ অন্যান্য শহরের চিত্র
রাজধানী ইসলামাবাদেও হাজার হাজার মানুষ ‘রেড জোন’ অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এই সংঘর্ষে সেখানে অন্তত দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া লাহোরে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পেশোয়ারেও প্রেস ক্লাবের সামনে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশজুড়ে চরম উত্তেজনা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পাঞ্জাব সরকার ও ইসলামাবাদ প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। বর্তমানে সব ধরনের জনসমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
দ



















