০৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধ থামাতে ইরানের ৩ শর্ত: অনড় অবস্থানে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৪

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক শর্ত দিল ইরান। বুধবার (১১ মার্চ) রাশিয়া ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ বন্ধে তিনটি প্রধান শর্তের কথা ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই শর্তগুলোর বিষয়ে তেহরান কোনো ধরনের আপস করবে না।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ৩ শর্ত:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর শর্তগুলো তুলে ধরেন:
১. বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের ন্যায্য ও সার্বভৌম অধিকারের পূর্ণ স্বীকৃতি দিতে হবে।
২. ক্ষতিপূরণ প্রদান: সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৩. আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা: ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা হবে না, এই মর্মে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই সংঘাতের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে তাদের ‘মূল উসকানিদাতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইরানের এই শর্তের মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে একযোগে ১০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতে, হাইফা, গালিলি ও গোলান উপত্যকায় সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এটিই হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে চালানো সবচেয়ে বড় রকেট হামলা।

কূটনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। বুধবার স্পেনের সরকারি গেজেটে জানানো হয়েছে, দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এখন থেকে তেল আবিবে স্পেনের দূতাবাস কেবল একজন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বা কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মূলত ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর বিরোধের জেরে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাদ্রিদ।

রাশিয়া পরিস্থিতি শান্ত করতে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখলেও, তেহরানের কঠোর শর্তসমূহ যুদ্ধ বিরতির আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বনেতারা যখন বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে চেষ্টা করছেন, তখন ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

আজ থেকে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু”: ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যুদ্ধ থামাতে ইরানের ৩ শর্ত: অনড় অবস্থানে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

আপডেট: ১০:৫১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক শর্ত দিল ইরান। বুধবার (১১ মার্চ) রাশিয়া ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ বন্ধে তিনটি প্রধান শর্তের কথা ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই শর্তগুলোর বিষয়ে তেহরান কোনো ধরনের আপস করবে না।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ৩ শর্ত:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর শর্তগুলো তুলে ধরেন:
১. বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের ন্যায্য ও সার্বভৌম অধিকারের পূর্ণ স্বীকৃতি দিতে হবে।
২. ক্ষতিপূরণ প্রদান: সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৩. আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা: ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা হবে না, এই মর্মে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই সংঘাতের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে তাদের ‘মূল উসকানিদাতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইরানের এই শর্তের মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে একযোগে ১০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতে, হাইফা, গালিলি ও গোলান উপত্যকায় সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এটিই হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে চালানো সবচেয়ে বড় রকেট হামলা।

কূটনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। বুধবার স্পেনের সরকারি গেজেটে জানানো হয়েছে, দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এখন থেকে তেল আবিবে স্পেনের দূতাবাস কেবল একজন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বা কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মূলত ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর বিরোধের জেরে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাদ্রিদ।

রাশিয়া পরিস্থিতি শান্ত করতে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখলেও, তেহরানের কঠোর শর্তসমূহ যুদ্ধ বিরতির আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বনেতারা যখন বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে চেষ্টা করছেন, তখন ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে।