দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার দীর্ঘ ১৭ মাস পর এই অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের সংসদ অধিবেশনে দেখা যাবে বেশ কিছু নজিরবিহীন পরিবর্তন ও ঐতিহাসিক ক্ষণ।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রচলিত রেওয়াজের বাইরে গিয়ে আজকের অধিবেশন শুরু হবে কিছুটা ব্যতিক্রমীভাবে। বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের চেয়ার খালি থাকবে। কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, একজন প্রবীণ সংসদ সদস্যকে সভাপতিত্ব করার জন্য আহ্বান জানানো হবে এবং তাঁর অধীনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন।
ক্ষমতার নতুন বিন্যাস: সরকারি দলে বিএনপি, বিরোধী দলে জামায়াত
২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম সংসদে সরকারি দলের আসনে বসছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করা বিএনপি। অন্যদিকে, ৬৬টি আসন নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে। তাদের সঙ্গে জোটে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস।
ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে বিতর্ক
‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের বিধান থাকলেও, জামায়াতে ইসলামী আপাতত এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। সরকারি দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তাঁরা জুলাই সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়ন চান এবং বিধি মোতাবেক বিরোধী দল যতটুকু প্রাপ্য, সেটুকুই গ্রহণ করবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস মেয়াদে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আজকের অধিবেশনে উপস্থাপিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ’ এবং ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ’। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এগুলো অনুমোদিত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথম দিনই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সংসদে তাঁর ভাষণ দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই।
অধিবেশনের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০২৪-এর জুলাই গণ অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পেশ করা হবে। সংসদ অধিবেশন ঘিরে রাজধানী জুড়ে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৫ আগস্টের ক্ষয়ক্ষতির পর দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে সংসদ ভবনকে পুনরায় অধিবেশনের উপযোগী করা হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হবে এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির পর ২৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন বসার সম্ভাবনা রয়েছে।




















