১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

যশোর পাউবো’র হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে ১৭ বছরে ঠিকাদারি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ; প্রভাব খাটিয়েছেন শ্রমিক লীগ নেতার পরিচয়

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬০০

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন হিসাব সহকারী মো. মহাসিন আলীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একই দপ্তরে থেকে ঠিকাদারি, আউটসোর্সিং নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক লীগের জেলা নেতা হওয়ায় এত দিন তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নিয়োগে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে যশোর পাউবো’র ৩১ জন জনবল নিয়োগে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম করেছেন মহাসিন আলী।
* তিনি মেহেরপুরের “জোহা এন্টারপ্রাইজ” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে টেন্ডার জমা দেন এবং ঝিনাইদহের আবু সাইদকে সহযোগী করেন।
* পূর্বে কর্মরত ৩১ জনের মধ্যে ৭ জন ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়।
* অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৭ জনের কাছ থেকে তিনি ৪.৫ থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন।
* নিয়োগে অনিয়ম ধরা পড়লে মুকুল হোসেন ও মাহফুজুর রহমান নামের দুই প্রার্থীকে বাদ দিয়ে কবির ও খালিদ নামে দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের কোনো সিভি বা বায়োডাটা টেন্ডারে ছিল না।
* এমনকি, নিয়োগ পাওয়া এক প্রার্থী হোজাইফার বয়স ১৮ বছরও হয়নি এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্রও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
আউটসোর্সিং কর্মচারী রাজু আহমেদ অভিযোগ করেন, “মহাসিন আমাকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। পরে দেখি, সেটা আউটসোর্সিং চাকরি।”
বেনামে ঠিকাদারি ও অবৈধ সম্পদ
অভিযোগে আরও বলা হয়, মহাসিন আলী ২০২১–২২ অর্থবছরেও একই কায়দায় বেনামে ঠিকাদারি করে প্রতি কর্মচারীর কাছ থেকে ২–৩ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। যশোর শহরের হাফিজুর রহমান জানান, “সেই সময় মহাসিন বেনামে আমাদের পার্টনার ছিলেন এবং তার শ্যালককেও কাজে যুক্ত করেছিলেন।” বর্তমানে চৌগাছার কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সৌন্দর্যবর্ধন কাজেও তিনি পার্টনার হিসেবে যুক্ত আছেন।
একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও আউটসোর্সিং ও ঠিকাদারি বাণিজ্যের অর্থে তিনি যশোর শহর ও গ্রামে আত্মীয়দের নামে জমি কিনেছেন, দামি মোটরসাইকেল ও আইফোন ব্যবহার করছেন এবং বিলাসী জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা
মহাসিন আলী শ্রমিক লীগ যশোর জেলা শাখার শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক। নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পর বদলি হওয়ার কথা থাকলেও তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টানা ১৭ বছর ধরে একই দপ্তরে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি, ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকে গণশুনানি
অভিযোগের বিষয়ে মো. মহাসিন আলী মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, “অভিযোগের বিষয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর দুদকে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শোনা হবে।”

সর্বাধিক পঠিত

সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার, ৫ আগস্টের ভিডিও ঘিরে নানা প্রশ্ন

যশোর পাউবো’র হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে ১৭ বছরে ঠিকাদারি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ; প্রভাব খাটিয়েছেন শ্রমিক লীগ নেতার পরিচয়

আপডেট: ১১:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন হিসাব সহকারী মো. মহাসিন আলীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একই দপ্তরে থেকে ঠিকাদারি, আউটসোর্সিং নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক লীগের জেলা নেতা হওয়ায় এত দিন তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নিয়োগে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে যশোর পাউবো’র ৩১ জন জনবল নিয়োগে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম করেছেন মহাসিন আলী।
* তিনি মেহেরপুরের “জোহা এন্টারপ্রাইজ” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে টেন্ডার জমা দেন এবং ঝিনাইদহের আবু সাইদকে সহযোগী করেন।
* পূর্বে কর্মরত ৩১ জনের মধ্যে ৭ জন ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়।
* অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৭ জনের কাছ থেকে তিনি ৪.৫ থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন।
* নিয়োগে অনিয়ম ধরা পড়লে মুকুল হোসেন ও মাহফুজুর রহমান নামের দুই প্রার্থীকে বাদ দিয়ে কবির ও খালিদ নামে দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের কোনো সিভি বা বায়োডাটা টেন্ডারে ছিল না।
* এমনকি, নিয়োগ পাওয়া এক প্রার্থী হোজাইফার বয়স ১৮ বছরও হয়নি এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্রও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
আউটসোর্সিং কর্মচারী রাজু আহমেদ অভিযোগ করেন, “মহাসিন আমাকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। পরে দেখি, সেটা আউটসোর্সিং চাকরি।”
বেনামে ঠিকাদারি ও অবৈধ সম্পদ
অভিযোগে আরও বলা হয়, মহাসিন আলী ২০২১–২২ অর্থবছরেও একই কায়দায় বেনামে ঠিকাদারি করে প্রতি কর্মচারীর কাছ থেকে ২–৩ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। যশোর শহরের হাফিজুর রহমান জানান, “সেই সময় মহাসিন বেনামে আমাদের পার্টনার ছিলেন এবং তার শ্যালককেও কাজে যুক্ত করেছিলেন।” বর্তমানে চৌগাছার কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সৌন্দর্যবর্ধন কাজেও তিনি পার্টনার হিসেবে যুক্ত আছেন।
একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও আউটসোর্সিং ও ঠিকাদারি বাণিজ্যের অর্থে তিনি যশোর শহর ও গ্রামে আত্মীয়দের নামে জমি কিনেছেন, দামি মোটরসাইকেল ও আইফোন ব্যবহার করছেন এবং বিলাসী জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা
মহাসিন আলী শ্রমিক লীগ যশোর জেলা শাখার শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক। নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পর বদলি হওয়ার কথা থাকলেও তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টানা ১৭ বছর ধরে একই দপ্তরে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি, ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকে গণশুনানি
অভিযোগের বিষয়ে মো. মহাসিন আলী মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, “অভিযোগের বিষয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর দুদকে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শোনা হবে।”