১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আড়াই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, হত্যার হুমকি ও তাঁর পকেট থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সদস্য মো. আল আমিন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন (৪১)। তবে মারধরের কথা স্বীকার করলেও টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে আল আমিন বিশ্বাস রুবেলের শোরুম থেকে ৬ হাজার টাকা নগদ দিয়ে বাকিতে একটি এলইডি টেলিভিশন কেনেন। এ সময় তাঁর কাছে আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা থেকে যায়। বাকি টাকা চাইতে গেলে আল আমিন বিভিন্ন অজুহাতে তা পরিশোধে টালবাহানা করেন বলে অভিযোগ করেছেন রুবেল।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বাজারপাড়া বাজারে সিনেমা হলসংলগ্ন মশিউর রহমানের ডেকোরেটরের দোকানে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে রুবেলকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর আগে থেকে অবস্থান করা কয়েকজন তাঁকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে আল আমিন বিশ্বাস, তাঁর ভাই মো. মোমিন হোসেন ও মো. নুরুল ইসলামসহ ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে রুবেলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রুবেলের দাবি, মারধরে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলা চেপে ধরা হয়। এ সময় তাঁর পকেটে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে রুবেলকে মারধর করতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। ওই ফুটেজে আল আমিন বিশ্বাসের উপস্থিতিও রয়েছে। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা রুবেলের টি-শার্ট খুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া, উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধরের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি রুবেলের বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ফুটেজে রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

রুবেল হোসেন বলেন, “হামলার পর আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাঁর ভাই আমার বাড়িতে বোমা ফাটিয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর তাঁর লোকজন দিয়ে আরও তিনজনকে একইভাবে মারধর করা হয়েছে। ভয়ে তাঁরা মুখ খুলছেন না, এমনকি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না। ভবিষ্যতে অন্য কেউ যেন এ ধরনের হামলার শিকার না হন, সে জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাস বলেন, টেলিভিশন কেনার কারণে রুবেলের কাছে তাঁর আড়াই হাজার টাকা পাওনা ছিল। গত ১৬ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে হেলিপ্যাড এলাকা, অর্থাৎ হাটখোলা বাজারে এ টাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় গোমস্তাপুর সিনেমা হলের সামনে রুবেলের আপন চাচাতো ভাইয়ের দোকানে টাকা পরিশোধের বিষয়ে মীমাংসার জন্য বসেন তাঁরা। সেখানে রুবেল উচ্চবাচ্য করলে তাঁর লোকজন তাঁকে মারধর করেন বলে স্বীকার করেন আল আমিন।

তবে টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, রুবেলের চাচাতো ভাইয়ের কাছে তাঁর আগে থেকেই সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকা তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে নিতে বলেছিলেন তিনি। কিন্তু রুবেল টাকা পাবেন, সেটি ঠিক হলেও তিনি তাঁকে বিভিন্ন সময়ে অসম্মানজনক কথা বলেছেন। এ কারণেই তাঁর লোকজন মারধর করেছেন বলে দাবি করেন আল আমিন।

এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক বলেন, মারধরের ঘটনায় গত ২৬ অক্টোবর থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত

সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার, ৫ আগস্টের ভিডিও ঘিরে নানা প্রশ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আড়াই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট: ১০:২১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, হত্যার হুমকি ও তাঁর পকেট থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সদস্য মো. আল আমিন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন (৪১)। তবে মারধরের কথা স্বীকার করলেও টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে আল আমিন বিশ্বাস রুবেলের শোরুম থেকে ৬ হাজার টাকা নগদ দিয়ে বাকিতে একটি এলইডি টেলিভিশন কেনেন। এ সময় তাঁর কাছে আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা থেকে যায়। বাকি টাকা চাইতে গেলে আল আমিন বিভিন্ন অজুহাতে তা পরিশোধে টালবাহানা করেন বলে অভিযোগ করেছেন রুবেল।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বাজারপাড়া বাজারে সিনেমা হলসংলগ্ন মশিউর রহমানের ডেকোরেটরের দোকানে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে রুবেলকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর আগে থেকে অবস্থান করা কয়েকজন তাঁকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে আল আমিন বিশ্বাস, তাঁর ভাই মো. মোমিন হোসেন ও মো. নুরুল ইসলামসহ ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে রুবেলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রুবেলের দাবি, মারধরে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলা চেপে ধরা হয়। এ সময় তাঁর পকেটে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে রুবেলকে মারধর করতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। ওই ফুটেজে আল আমিন বিশ্বাসের উপস্থিতিও রয়েছে। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা রুবেলের টি-শার্ট খুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া, উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধরের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি রুবেলের বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ফুটেজে রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

রুবেল হোসেন বলেন, “হামলার পর আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাঁর ভাই আমার বাড়িতে বোমা ফাটিয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর তাঁর লোকজন দিয়ে আরও তিনজনকে একইভাবে মারধর করা হয়েছে। ভয়ে তাঁরা মুখ খুলছেন না, এমনকি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না। ভবিষ্যতে অন্য কেউ যেন এ ধরনের হামলার শিকার না হন, সে জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাস বলেন, টেলিভিশন কেনার কারণে রুবেলের কাছে তাঁর আড়াই হাজার টাকা পাওনা ছিল। গত ১৬ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে হেলিপ্যাড এলাকা, অর্থাৎ হাটখোলা বাজারে এ টাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় গোমস্তাপুর সিনেমা হলের সামনে রুবেলের আপন চাচাতো ভাইয়ের দোকানে টাকা পরিশোধের বিষয়ে মীমাংসার জন্য বসেন তাঁরা। সেখানে রুবেল উচ্চবাচ্য করলে তাঁর লোকজন তাঁকে মারধর করেন বলে স্বীকার করেন আল আমিন।

তবে টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, রুবেলের চাচাতো ভাইয়ের কাছে তাঁর আগে থেকেই সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকা তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে নিতে বলেছিলেন তিনি। কিন্তু রুবেল টাকা পাবেন, সেটি ঠিক হলেও তিনি তাঁকে বিভিন্ন সময়ে অসম্মানজনক কথা বলেছেন। এ কারণেই তাঁর লোকজন মারধর করেছেন বলে দাবি করেন আল আমিন।

এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক বলেন, মারধরের ঘটনায় গত ২৬ অক্টোবর থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।