০৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা ইরফান আলীর কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১৫

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস অ্যান্ড বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইরফান আলীর বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেড়বাড়ী এলাকার কৃষক মো. শমসের আলীর ছেলে ইরফান আলী কাস্টমসে যোগ দেওয়ার পর খুব অল্প সময়েই অঢেল সম্পদের মালিক বনে যান। বন্ডেড লাইসেন্স নবায়ন, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল ছাড়পত্র ও বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদনের দোহাই দিয়ে তিনি শিল্পমালিকদের জিম্মি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতেন। ‘সিলভার কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড (ইউনিট-১ গার্মেন্টস)’ এবং ‘রুপা প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেড’-এর মতো বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কাস্টমস সুবিধা দেওয়ার নামে মাত্র দুই বছরে তিনি কয়েক কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ না দিলে পণ্য খালাস ও ছাড়পত্র আটকে দেওয়া হতো, যা কারখানাগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত করছিল।

কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও ইরফান আলী তাঁর নিজের, স্ত্রী তুলি আক্তার ও অন্যান্য স্বজনদের নামে অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। দুদকের অভিযোগে উল্লেখিত তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্পদের বিবরণী নিচে দেওয়া হলো:

মাগুরার ভায়নার মোড় এলাকায় স্ত্রী তুলি আক্তারের নামে ১ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৫২ শতক জমি ক্রয় এবং একই এলাকায় একটি নবনির্মিত ১০ তলা ভবনে স্বজনদের সঙ্গে অংশীদারত্বে অন্তত ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ।
রাজধানীর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের অভিজাত এলাকায় প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের ১,৬৬০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট।
ঝিনাইদহ সদর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৬৬ লাখ টাকায় ৩ বিঘা জমিসহ ৮১ ও ১১০ নম্বর বিষয়খালি মৌজায় নিজের ও পরিবারের নামে আরও অন্তত ১০ বিঘা জমি।
গ্রামের বাড়িতে তৈরি একতলা বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদের প্রতিটি কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি) স্থাপনসহ অস্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
পরিবারসহ প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৮০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর (FDR) ও ডিপিএস (DPS)।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, অভাব-অনটনের সংসারে কৃষক বাবা অনেক কষ্ট করে ইরফানকে পড়াশোনা করান। তবে কাস্টমসের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর খুব অল্প দিনেই তিনি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে ওঠেন।

এসব গুরুতর অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মো. ইরফান আলীর মুঠোফোনে কল এবং খুদেবার্তা পাঠালেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে ২,৬৩৫ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা ইরফান আলীর কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য

আপডেট: ১০:০১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস অ্যান্ড বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইরফান আলীর বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেড়বাড়ী এলাকার কৃষক মো. শমসের আলীর ছেলে ইরফান আলী কাস্টমসে যোগ দেওয়ার পর খুব অল্প সময়েই অঢেল সম্পদের মালিক বনে যান। বন্ডেড লাইসেন্স নবায়ন, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল ছাড়পত্র ও বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদনের দোহাই দিয়ে তিনি শিল্পমালিকদের জিম্মি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতেন। ‘সিলভার কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড (ইউনিট-১ গার্মেন্টস)’ এবং ‘রুপা প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেড’-এর মতো বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কাস্টমস সুবিধা দেওয়ার নামে মাত্র দুই বছরে তিনি কয়েক কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ না দিলে পণ্য খালাস ও ছাড়পত্র আটকে দেওয়া হতো, যা কারখানাগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত করছিল।

কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও ইরফান আলী তাঁর নিজের, স্ত্রী তুলি আক্তার ও অন্যান্য স্বজনদের নামে অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। দুদকের অভিযোগে উল্লেখিত তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্পদের বিবরণী নিচে দেওয়া হলো:

মাগুরার ভায়নার মোড় এলাকায় স্ত্রী তুলি আক্তারের নামে ১ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৫২ শতক জমি ক্রয় এবং একই এলাকায় একটি নবনির্মিত ১০ তলা ভবনে স্বজনদের সঙ্গে অংশীদারত্বে অন্তত ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ।
রাজধানীর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের অভিজাত এলাকায় প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের ১,৬৬০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট।
ঝিনাইদহ সদর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৬৬ লাখ টাকায় ৩ বিঘা জমিসহ ৮১ ও ১১০ নম্বর বিষয়খালি মৌজায় নিজের ও পরিবারের নামে আরও অন্তত ১০ বিঘা জমি।
গ্রামের বাড়িতে তৈরি একতলা বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদের প্রতিটি কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি) স্থাপনসহ অস্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
পরিবারসহ প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৮০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর (FDR) ও ডিপিএস (DPS)।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, অভাব-অনটনের সংসারে কৃষক বাবা অনেক কষ্ট করে ইরফানকে পড়াশোনা করান। তবে কাস্টমসের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর খুব অল্প দিনেই তিনি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে ওঠেন।

এসব গুরুতর অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মো. ইরফান আলীর মুঠোফোনে কল এবং খুদেবার্তা পাঠালেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।