০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

মেঘনা–মিডল্যান্ড ব্যাংকে নেতৃত্ব বদলের পর খেলাপি ঋণ বেড়েছে, চেয়ারম্যান দুই ভাই-বোন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:০২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৪

মেঘনা ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী এবং গ্রুপটির চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী। তারা সম্পর্কে ভাই-বোন। নতুন ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর দুই ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে বলে ব্যাং সাবেক মন্ত্রী আশিকুর রহমানের নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকটি পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ ছিল। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে পরিচালনা পর্ষদ পুনকটির তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৩ সালে মেঘনা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় উজমা চৌধুরী ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা। আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক মন্ত্রী আশিকুর রহমানের নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকটি পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ ছিল। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পর উজমা চৌধুরী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

উজমা চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার আগে মেঘনা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৩ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২০১৩ সালে মিডল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় আহসান খান চৌধুরীও উদ্যোক্তা ছিলেন। ব্যাংকটি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী নিলুফার জাফরুল্লাহ ছিলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ব্যাংকের সভায় অনুপস্থিত হতে থাকলে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ পরিচালনা পর্ষদের ১৬৫তম সভায় আহসান খান চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।

আহসান খান চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার আগে মিডল্যান্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৩৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে তা বেড়ে ৪১২ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক দুটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার ঘটনা দেশে নজিরবিহীন। পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে এরকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে বক্তব্য দেননি।

ব্যাংকসংশ্লিষ্টদের মতে, একই পরিবারের ভাই-বোনের দুটি তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার ঘটনা দেশে নজিরবিহীন। পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে ২,৬৩৫ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’

মেঘনা–মিডল্যান্ড ব্যাংকে নেতৃত্ব বদলের পর খেলাপি ঋণ বেড়েছে, চেয়ারম্যান দুই ভাই-বোন

আপডেট: ০১:০২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

মেঘনা ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী এবং গ্রুপটির চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী। তারা সম্পর্কে ভাই-বোন। নতুন ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর দুই ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে বলে ব্যাং সাবেক মন্ত্রী আশিকুর রহমানের নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকটি পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ ছিল। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে পরিচালনা পর্ষদ পুনকটির তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৩ সালে মেঘনা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় উজমা চৌধুরী ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা। আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক মন্ত্রী আশিকুর রহমানের নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকটি পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ ছিল। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পর উজমা চৌধুরী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

উজমা চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার আগে মেঘনা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৩ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২০১৩ সালে মিডল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় আহসান খান চৌধুরীও উদ্যোক্তা ছিলেন। ব্যাংকটি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী নিলুফার জাফরুল্লাহ ছিলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ব্যাংকের সভায় অনুপস্থিত হতে থাকলে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ পরিচালনা পর্ষদের ১৬৫তম সভায় আহসান খান চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।

আহসান খান চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার আগে মিডল্যান্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৩৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে তা বেড়ে ৪১২ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক দুটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার ঘটনা দেশে নজিরবিহীন। পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে এরকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে বক্তব্য দেননি।

ব্যাংকসংশ্লিষ্টদের মতে, একই পরিবারের ভাই-বোনের দুটি তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার ঘটনা দেশে নজিরবিহীন। পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে।