যশোরের অভয়নগরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ ও পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাতুল শেখ (২১) ও তার বাবা মুজাহিদ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপহরণের পর ঢাকায় আটকে রাখা ওই ছাত্রী পালিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে খুলনা থেকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের মুজাহিদ মোল্লা ও তার ছেলে রাতুল শেখ। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, অপহরণের আগে মাসে এক লাখ টাকার বেশি আয়ের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন রাতুল ও মুজাহিদ। তাদের সঙ্গে যেতে রাজি না হওয়ায় পরে তাকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ দাবি করেছে, তারা নারী অপহরণ ও পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে অভয়নগরে বাড়ির সামনের সড়ক থেকে ওই ছাত্রীকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে প্রথমে অভয়নগর থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরে রাতুল শেখের সম্পৃক্ততার কথা জানতে পেরে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ছাত্রীর স্বজনরা। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে ছাত্রীর বোন বাদী হয়ে রাতুল, তার বাবা ও বোনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতুল ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই ছাত্রী ঢাকার গুলিস্তানে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের কাউন্টার থেকে ফোন করে তার বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিষয়টি জানতে পেরে তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে খুলনায় ফেরার ব্যবস্থা করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সোনাডাঙ্গা বাস কাউন্টারে পৌঁছালে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
উদ্ধার হওয়া ১৪ বছর বয়সী ওই ছাত্রী পুলিশকে জানায়, রাতুল ও মুজাহিদ তাকে অপহরণ করে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যায়। সেখান থেকে অন্যদের মাধ্যমে বাসে করে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় আসিফ নামে এক ব্যক্তি তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানের দোতলা বাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে আরও চারজন মেয়েকে রাখা হয়েছিল বলে সে জানায়।
ছাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের পাহারায় থাকা এক নারী কথা বললে মারধর করতেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে খাওয়ার পর সবাই ঘুমিয়ে পড়লে সে সেখান থেকে পালিয়ে গুলিস্তান বাস কাউন্টারে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।










