খুলনায় এক দিনের ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থানে সশস্ত্র হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলার যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক দুই স্থানীয় নেতা এবং খুলনা মহানগরীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রয়েছেন। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসানকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
গুলিবিদ্ধ তিনজনের মধ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতা সোহেল শেখের অবস্থা সবচেয়ে আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।
অন্য আহত যুবদল নেতা অহিদুল ইসলাম বাদলের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এদিকে খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় গুলিবিদ্ধ জাপান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মী সালমান হাওলাদারের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে বটিয়াঘাটা থানার আওতাধীন দুটি পৃথক এলাকা এবং খুলনা মহানগরীর সদর থানার নিরালা আবাসিক এলাকায় এসব গুলির ঘটনা ঘটে।
আহত অহিদুল ইসলাম বাদল বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। অন্যদিকে সোহেল শেখ আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুখ গণমাধ্যমকে জানান, বটিয়াঘাটা থানায় নতুন ওসি পদায়ন নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে দুই রাজনৈতিক নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
বটিয়াঘাটা থানার নবনিযুক্ত ওসি এস এম মিজানুর রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। শিগগিরই তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সালমান হাওলাদারকে গুলি করার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
পৃথক তিনটি হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।




















