০৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস: ছেঁউড়িয়ায় শুরু তিন দিনব্যাপী জাতীয় স্মরণোৎসব

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:২১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৬০

উপমহাদেশের প্রখ্যাত মরমি সাধক, কবি ও মানবতাবাদী দার্শনিক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস আজ (শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর)। এ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। এবারই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে এই স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই স্মরণোৎসব সফল করার জন্য আয়োজকরা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। উৎসবকে ঘিরে বাউল, ভক্ত, সাধুদের পদচারণায় আখড়া প্রাঙ্গণ এখন মুখরিত।
শুক্রবার বিকালে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠান চলবে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত।
তিরোধান দিবসকে কেন্দ্র করে সপ্তাহখানেক আগে থেকেই দেশ-বিদেশের হাজারো লালন ভক্ত-অনুসারী ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন। আখড়াবাড়ির পাশে কালী নদীর পাড়ের বিশাল মাঠে বসেছে লালন মেলা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালী নদীর তীরে বাউলভক্ত-অনুসারীরা তাবু গেড়ে আস্তানা তৈরি করেছেন। তারা একতারা-দোতারাসহ বিভিন্ন বাদ্যের তালে তালে লালনের অমর বাণী গেয়ে চলেছেন। মাঠের দক্ষিণে মূল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং উত্তরে বসেছে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর দোকান। এছাড়া, সমাধির পাশের উন্মুক্ত শেডের নিচেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্ত-অনুসারীরা লালনের গান ও তার দর্শন নিয়ে আলোচনা করছেন।
স্থানীয় লালন অনুসারী ফারুক সাধু বলেন, “এখানে আসি মূলত সাঁইজির মর্মবাণী চর্চাসহ ভক্তদের উজ্জীবিত করা ও পরস্পর ভাব বিনিময়ের জন্য।”
১২৯৭ বঙ্গাব্দের পয়লা কার্তিক ফকির লালন সাঁইয়ের দেহত্যাগের পর থেকে তার স্মরণে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন ঐতিহ্যগতভাবে এই আয়োজন করে আসছে।
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’— লালনের এই আধ্যাত্মিক বাণীকে ধারণ করে এবারই প্রথম জাতীয়ভাবে স্মরণোৎসব পালিত হচ্ছে। গুরুকে স্মরণ, তার দর্শন লাভ, জ্ঞান সঞ্চয় এবং আত্মার শুদ্ধি ও মুক্তির লক্ষ্যে দেশ-বিদেশ থেকে লালন অনুসারী, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা সাঁইজির ধামে আসতে শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বলেন, প্রতিদিন রাতে আখড়াবাড়ীর মূলমঞ্চে আলোচনা সভার পাশাপাশি অ্যাকাডেমির শিল্পী ও দেশবরেণ্য লালন শিল্পীরা আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করবেন।
তিনি আরও জানান, “আখড়াবাড়ী চত্বরে কালী নদীর তীরে বিশাল লালন মেলা বসেছে। আর এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে সিসি টিভি, ওয়াচ টাওয়ারসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

সর্বাধিক পঠিত

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বাগআঁচড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস: ছেঁউড়িয়ায় শুরু তিন দিনব্যাপী জাতীয় স্মরণোৎসব

আপডেট: ০৬:২১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

উপমহাদেশের প্রখ্যাত মরমি সাধক, কবি ও মানবতাবাদী দার্শনিক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস আজ (শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর)। এ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। এবারই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে এই স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই স্মরণোৎসব সফল করার জন্য আয়োজকরা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। উৎসবকে ঘিরে বাউল, ভক্ত, সাধুদের পদচারণায় আখড়া প্রাঙ্গণ এখন মুখরিত।
শুক্রবার বিকালে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠান চলবে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত।
তিরোধান দিবসকে কেন্দ্র করে সপ্তাহখানেক আগে থেকেই দেশ-বিদেশের হাজারো লালন ভক্ত-অনুসারী ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন। আখড়াবাড়ির পাশে কালী নদীর পাড়ের বিশাল মাঠে বসেছে লালন মেলা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালী নদীর তীরে বাউলভক্ত-অনুসারীরা তাবু গেড়ে আস্তানা তৈরি করেছেন। তারা একতারা-দোতারাসহ বিভিন্ন বাদ্যের তালে তালে লালনের অমর বাণী গেয়ে চলেছেন। মাঠের দক্ষিণে মূল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং উত্তরে বসেছে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর দোকান। এছাড়া, সমাধির পাশের উন্মুক্ত শেডের নিচেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্ত-অনুসারীরা লালনের গান ও তার দর্শন নিয়ে আলোচনা করছেন।
স্থানীয় লালন অনুসারী ফারুক সাধু বলেন, “এখানে আসি মূলত সাঁইজির মর্মবাণী চর্চাসহ ভক্তদের উজ্জীবিত করা ও পরস্পর ভাব বিনিময়ের জন্য।”
১২৯৭ বঙ্গাব্দের পয়লা কার্তিক ফকির লালন সাঁইয়ের দেহত্যাগের পর থেকে তার স্মরণে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন ঐতিহ্যগতভাবে এই আয়োজন করে আসছে।
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’— লালনের এই আধ্যাত্মিক বাণীকে ধারণ করে এবারই প্রথম জাতীয়ভাবে স্মরণোৎসব পালিত হচ্ছে। গুরুকে স্মরণ, তার দর্শন লাভ, জ্ঞান সঞ্চয় এবং আত্মার শুদ্ধি ও মুক্তির লক্ষ্যে দেশ-বিদেশ থেকে লালন অনুসারী, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা সাঁইজির ধামে আসতে শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বলেন, প্রতিদিন রাতে আখড়াবাড়ীর মূলমঞ্চে আলোচনা সভার পাশাপাশি অ্যাকাডেমির শিল্পী ও দেশবরেণ্য লালন শিল্পীরা আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করবেন।
তিনি আরও জানান, “আখড়াবাড়ী চত্বরে কালী নদীর তীরে বিশাল লালন মেলা বসেছে। আর এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে সিসি টিভি, ওয়াচ টাওয়ারসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”