০২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহে বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যু,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৪৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৬১

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় বিষাক্ত মদ বা অ্যালকোহল পান করে ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আরও তিনজন দিনমজুর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতরা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ—যাঁদের মধ্যে ছিলেন ভ্যানচালক, মিল শ্রমিক এবং মাছ ব্যবসায়ী।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে ডিঙ্গেদহ বাজার এলাকায় কয়েকজন একসঙ্গে অ্যালকোহল পান করেন। এরপর তারা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সময়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়। গত রোববার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যুর পর বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে।”
তিনি আরও জানান যে, পুলিশ প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছে। ইতিমধ্যেই মৃতদের মধ্যে চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে, কারণ তাদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি গোপন রেখেছিলেন। নিহতরা হলেন—নফরকান্দি গ্রামের ভ্যানচালক খেদের আলী (৪০), খেজুরা হাসপাতালপাড়ার মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম (৪০), পিরোজখালি স্কুলপাড়ার ভ্যানচালক মোহাম্মদ লাল্টু ওরফে রিপু (৩০), শংকরচন্দ্র মাঝেরপাড়ার শ্রমিক মোহাম্মদ শহীদ (৪৫), ডিঙ্গেদহ টাওয়ারপাড়ার মিল শ্রমিক মোহাম্মদ সামির (৫৫) এবং ডিঙ্গেদহ এশিয়া বিস্কুট ফ্যাক্টরি পাড়ার শ্রমিক সরদার মোহাম্মদ লালটু (৫২)। এছাড়া দিনমজুর আলিম উদ্দিন নামে একজন বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে মদ পানের পর শনিবার প্রথমে খেদের আলী ও সেলিমের মৃত্যু হয়। এরপর রোববার দিনভর মারা যান বাকি চারজন। চারজনের পরিবার দ্রুত তাদের দাফন সম্পন্ন করেন। ডিঙ্গেদহসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষাক্ত পানীয়ের ছোবলে একাধিক পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে যাওয়ায় ঘরগুলোতে চলছে আর্তনাদ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ডিঙ্গেদহ বাজারে গোপনে দেশীয় মদ বিক্রি হয়ে আসছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দুলু মিয়াও স্বীকার করেন যে, ডিঙ্গেদহ বাজারে এক জায়গায় কয়েকজন একসঙ্গে মদ পান করেছিলেন।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলিম উদ্দিন জানান, “আমরা ভুট্টার গাড়ির লোডের কাজ করি। আমাদের সর্দার স্পিরিট পান করান। আমি অল্প খেয়েছিলাম। এর কয়েকদিন পর আমরা সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ি।”
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আফরিনা ইসলাম জানান, রোববার বিকেলে লান্টু মিয়া নামে একজনকে জরুরি বিভাগে আনা হয় এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩২ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, গত দুদিনে মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ ও অ্যালকোহলের উৎস অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) খালেদুর রহমানও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানিয়েছেন এবং বলেছেন তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। এই ঘটনায় ডিঙ্গেদহ ও আশপাশের গ্রামগুলোতে নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সর্বাধিক পঠিত

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বাগআঁচড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহে বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যু,

আপডেট: ০৭:৪৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় বিষাক্ত মদ বা অ্যালকোহল পান করে ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আরও তিনজন দিনমজুর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতরা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ—যাঁদের মধ্যে ছিলেন ভ্যানচালক, মিল শ্রমিক এবং মাছ ব্যবসায়ী।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে ডিঙ্গেদহ বাজার এলাকায় কয়েকজন একসঙ্গে অ্যালকোহল পান করেন। এরপর তারা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সময়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়। গত রোববার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যুর পর বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে।”
তিনি আরও জানান যে, পুলিশ প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছে। ইতিমধ্যেই মৃতদের মধ্যে চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে, কারণ তাদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি গোপন রেখেছিলেন। নিহতরা হলেন—নফরকান্দি গ্রামের ভ্যানচালক খেদের আলী (৪০), খেজুরা হাসপাতালপাড়ার মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম (৪০), পিরোজখালি স্কুলপাড়ার ভ্যানচালক মোহাম্মদ লাল্টু ওরফে রিপু (৩০), শংকরচন্দ্র মাঝেরপাড়ার শ্রমিক মোহাম্মদ শহীদ (৪৫), ডিঙ্গেদহ টাওয়ারপাড়ার মিল শ্রমিক মোহাম্মদ সামির (৫৫) এবং ডিঙ্গেদহ এশিয়া বিস্কুট ফ্যাক্টরি পাড়ার শ্রমিক সরদার মোহাম্মদ লালটু (৫২)। এছাড়া দিনমজুর আলিম উদ্দিন নামে একজন বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে মদ পানের পর শনিবার প্রথমে খেদের আলী ও সেলিমের মৃত্যু হয়। এরপর রোববার দিনভর মারা যান বাকি চারজন। চারজনের পরিবার দ্রুত তাদের দাফন সম্পন্ন করেন। ডিঙ্গেদহসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষাক্ত পানীয়ের ছোবলে একাধিক পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে যাওয়ায় ঘরগুলোতে চলছে আর্তনাদ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ডিঙ্গেদহ বাজারে গোপনে দেশীয় মদ বিক্রি হয়ে আসছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দুলু মিয়াও স্বীকার করেন যে, ডিঙ্গেদহ বাজারে এক জায়গায় কয়েকজন একসঙ্গে মদ পান করেছিলেন।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলিম উদ্দিন জানান, “আমরা ভুট্টার গাড়ির লোডের কাজ করি। আমাদের সর্দার স্পিরিট পান করান। আমি অল্প খেয়েছিলাম। এর কয়েকদিন পর আমরা সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ি।”
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আফরিনা ইসলাম জানান, রোববার বিকেলে লান্টু মিয়া নামে একজনকে জরুরি বিভাগে আনা হয় এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩২ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, গত দুদিনে মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ ও অ্যালকোহলের উৎস অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) খালেদুর রহমানও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানিয়েছেন এবং বলেছেন তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। এই ঘটনায় ডিঙ্গেদহ ও আশপাশের গ্রামগুলোতে নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে।