১২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

যশোরে হাঁসের খামারে ‘অপরাধীদের গোপন আস্তানা’, বিপুল অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার, আটক ৩

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৪৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৭২

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া আউলিয়াপাড়ায় একটি হাঁসের খামারে অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। অভিযানে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, ওয়াকিটকি, খেলনা পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ নেই, তবে ৭ ঘণ্টা আগে প্রকাশিত) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং ঝিকরগাছা থানা পুলিশের বিশেষ দল অংশ নেয়।
অভিযান শেষে পুলিশ জানায়, খামারটি থেকে হাসুয়া, রামদা, দা, কুড়াল, চাইনিজ কুড়াল, ওয়াকিটকি, খেলনা পিস্তল, রেঞ্চ, করাত, যৌনতা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জাম, মদের বোতল, ওজন মাপার স্কেল, সিসি ক্যামেরা এবং পুলিশের ব্যবহৃত পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, হাঁসের খামার ও মাছের ঘেরের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এই চক্রটি মূলত দেহব্যবসা, পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের মূল হোতা ও খামারের মালিক সোহাগ পালিয়ে যান।
আটককৃতরা হলেন—কাউরিয়া মুন্সিপাড়ার মৃত হাবিবুল্লাহ দেওয়ানের ছেলে মাহবুবুর রহমান, পারবাজার গ্রামের মৃত আশিকুল ইসলাম বাবুর ছেলে জাসিবুল ইসলাম হাসিব এবং মণিরামপুর উপজেলার ঝাপা পশ্চিমপাড়ার মমিনুর রহমানের ছেলে ইউনুস আলী।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই হাঁসের ফার্ম ও মাছের ঘেরটি দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহজনক কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। রাতে সেখানে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়তো। বাঁশঝাড়ের আড়ালে তৈরি টঙঘরগুলো ছিল অপরাধীদের নিয়মিত আড্ডাখানা। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই চক্রটি এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত থাকতে পারে।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত খামার মালিক সোহাগের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। এই ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযানে ডিবির এসআই আবু হাসান, এসআই অলোক কুমার দে এবং ঝিকরগাছা থানা ও ডিবির বিশেষ টিমের সদস্যরা অংশ নেন।

সর্বাধিক পঠিত

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে নুরুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বাগআঁচড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

যশোরে হাঁসের খামারে ‘অপরাধীদের গোপন আস্তানা’, বিপুল অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার, আটক ৩

আপডেট: ০৮:৪৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া আউলিয়াপাড়ায় একটি হাঁসের খামারে অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। অভিযানে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, ওয়াকিটকি, খেলনা পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ নেই, তবে ৭ ঘণ্টা আগে প্রকাশিত) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং ঝিকরগাছা থানা পুলিশের বিশেষ দল অংশ নেয়।
অভিযান শেষে পুলিশ জানায়, খামারটি থেকে হাসুয়া, রামদা, দা, কুড়াল, চাইনিজ কুড়াল, ওয়াকিটকি, খেলনা পিস্তল, রেঞ্চ, করাত, যৌনতা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জাম, মদের বোতল, ওজন মাপার স্কেল, সিসি ক্যামেরা এবং পুলিশের ব্যবহৃত পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, হাঁসের খামার ও মাছের ঘেরের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এই চক্রটি মূলত দেহব্যবসা, পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের মূল হোতা ও খামারের মালিক সোহাগ পালিয়ে যান।
আটককৃতরা হলেন—কাউরিয়া মুন্সিপাড়ার মৃত হাবিবুল্লাহ দেওয়ানের ছেলে মাহবুবুর রহমান, পারবাজার গ্রামের মৃত আশিকুল ইসলাম বাবুর ছেলে জাসিবুল ইসলাম হাসিব এবং মণিরামপুর উপজেলার ঝাপা পশ্চিমপাড়ার মমিনুর রহমানের ছেলে ইউনুস আলী।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই হাঁসের ফার্ম ও মাছের ঘেরটি দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহজনক কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। রাতে সেখানে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়তো। বাঁশঝাড়ের আড়ালে তৈরি টঙঘরগুলো ছিল অপরাধীদের নিয়মিত আড্ডাখানা। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই চক্রটি এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত থাকতে পারে।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত খামার মালিক সোহাগের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। এই ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযানে ডিবির এসআই আবু হাসান, এসআই অলোক কুমার দে এবং ঝিকরগাছা থানা ও ডিবির বিশেষ টিমের সদস্যরা অংশ নেন।