০৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

পিডিবিএফ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদোন্নতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:০৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) কর্মকর্তা মামুনুর রশিদকে ঘিরে চাকরিতে প্রবেশ, পদোন্নতি, নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথি, নিরীক্ষা আপত্তি ও বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিতে আবেদনের সময় মামুনুর রশিদের বয়স নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ছিল। নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর থাকলেও আবেদনের সময় তাঁর বয়স ৩১ বছর ২৪ দিন ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনে অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হলেও এর পক্ষে প্রয়োজনীয় সনদ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র সংযুক্ত ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে।

মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি বাগেরহাট সদর কার্যালয়ে প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পিরোজপুর অঞ্চলে সহকারী পরিচালক (মনিটরিং) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এ ঘটনা ঘটে। পিডিবিএফের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটিতে মামুনুর রশিদকে সদস্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, যে ঘটনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, সেই ঘটনার তদন্ত কমিটিতে তাঁকে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। বিষয়টি সত্য হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাগেরহাটের ওই ঘটনায় পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মামুনুর রশিদ চাকরিতে বহাল ছিলেন এবং পরবর্তীতে পদোন্নতিও পেয়েছেন। একই ঘটনায় কার বিরুদ্ধে কী ধরনের দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং কেন সবার ক্ষেত্রে সমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

পদোন্নতি নিয়েও মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের নম্বর পরিবর্তন বা বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পদোন্নতির পথ তৈরি করা হয়। পাশাপাশি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পদোন্নতি নিশ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করে পদোন্নতি বাতিলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

পিডিবিএফের তৎকালীন অতিরিক্ত পরিচালক (মানবসম্পদ উন্নয়ন) মহিউদ্দিন আহমেদ পান্নু পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত বক্তব্য দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে পিডিবিএফের ‘কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প ২য় পর্যায়’-এর উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটির সদস্য না হয়েও তিনি প্রভাব খাটিয়ে কমিটিতে যুক্ত হন এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ভূমিকা রাখেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর প্রভাবাধীন সময়ে ১ হাজার ৬৬৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং আরও প্রায় ২ হাজার ২০০ জনের একটি অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি করা হয়। পরে মাঠপর্যায়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিয়োগপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থের দর-কষাকষির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এত বড় অঙ্কের অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞাপন, পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব কী—তা নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

পিডিবিএফের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক ফজিলাতুন্নেসাকে ঘিরেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর নিয়োগ বাতিল, অর্থ আদায় ও চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করেছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পরও ফজিলাতুন্নেসা কীভাবে চাকরিতে বহাল থেকে পরবর্তীতে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। মামুনুর রশিদের প্রভাবেই তাঁর পদোন্নতি হয়েছে এবং উৎকোচের বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্টদের দাবি, মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। চাকরিতে নিয়োগের যোগ্যতা, আর্থিক অনিয়ম, তদন্তে স্বার্থের সংঘাত, পদোন্নতি, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম—প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পাশাপাশি পিডিবিএফের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—এসব নথি পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পিডিবিএফের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ মামুনুর রশিদ ও ফজিলাতুন্নেসার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রমাণিত হলে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে মামুনুর রশিদ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

১৭ মাসেও তদন্ত হয়নি: রংপুরে ভূমি অধিগ্রহণে ‘সিন্ডিকেটের’ বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ

পিডিবিএফ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদোন্নতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ০৫:০৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) কর্মকর্তা মামুনুর রশিদকে ঘিরে চাকরিতে প্রবেশ, পদোন্নতি, নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথি, নিরীক্ষা আপত্তি ও বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিতে আবেদনের সময় মামুনুর রশিদের বয়স নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ছিল। নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর থাকলেও আবেদনের সময় তাঁর বয়স ৩১ বছর ২৪ দিন ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনে অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হলেও এর পক্ষে প্রয়োজনীয় সনদ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র সংযুক্ত ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে।

মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি বাগেরহাট সদর কার্যালয়ে প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পিরোজপুর অঞ্চলে সহকারী পরিচালক (মনিটরিং) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এ ঘটনা ঘটে। পিডিবিএফের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটিতে মামুনুর রশিদকে সদস্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, যে ঘটনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, সেই ঘটনার তদন্ত কমিটিতে তাঁকে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। বিষয়টি সত্য হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাগেরহাটের ওই ঘটনায় পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মামুনুর রশিদ চাকরিতে বহাল ছিলেন এবং পরবর্তীতে পদোন্নতিও পেয়েছেন। একই ঘটনায় কার বিরুদ্ধে কী ধরনের দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং কেন সবার ক্ষেত্রে সমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

পদোন্নতি নিয়েও মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের নম্বর পরিবর্তন বা বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পদোন্নতির পথ তৈরি করা হয়। পাশাপাশি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পদোন্নতি নিশ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করে পদোন্নতি বাতিলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

পিডিবিএফের তৎকালীন অতিরিক্ত পরিচালক (মানবসম্পদ উন্নয়ন) মহিউদ্দিন আহমেদ পান্নু পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত বক্তব্য দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে পিডিবিএফের ‘কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প ২য় পর্যায়’-এর উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটির সদস্য না হয়েও তিনি প্রভাব খাটিয়ে কমিটিতে যুক্ত হন এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ভূমিকা রাখেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর প্রভাবাধীন সময়ে ১ হাজার ৬৬৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং আরও প্রায় ২ হাজার ২০০ জনের একটি অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি করা হয়। পরে মাঠপর্যায়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিয়োগপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থের দর-কষাকষির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এত বড় অঙ্কের অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞাপন, পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব কী—তা নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

পিডিবিএফের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক ফজিলাতুন্নেসাকে ঘিরেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর নিয়োগ বাতিল, অর্থ আদায় ও চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করেছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পরও ফজিলাতুন্নেসা কীভাবে চাকরিতে বহাল থেকে পরবর্তীতে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। মামুনুর রশিদের প্রভাবেই তাঁর পদোন্নতি হয়েছে এবং উৎকোচের বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্টদের দাবি, মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। চাকরিতে নিয়োগের যোগ্যতা, আর্থিক অনিয়ম, তদন্তে স্বার্থের সংঘাত, পদোন্নতি, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম—প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পাশাপাশি পিডিবিএফের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—এসব নথি পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পিডিবিএফের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ মামুনুর রশিদ ও ফজিলাতুন্নেসার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রমাণিত হলে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে মামুনুর রশিদ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।