০৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

‘আইসিটি আইনে মামলা ও সাজা’র হুমকি তহশিলদারের বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসুমপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীকে ‘আইসিটি আইনে মামলা’ করে সাজা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার নুরুজ্জামান নুরুর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুর উপজেলার বজরুক সন্তোষপুর গ্রামের রওশন আরা বেগমসহ কয়েকটি পরিবারের চলাচলের রাস্তা প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। রাস্তা উদ্ধারের জন্য উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

সম্প্রতি রাস্তা বন্ধের বিষয়টি নিয়ে রওশন আরা বেগমের মেয়ে উজালী বেগমের সঙ্গে বালুয়া মাসুমপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার নুরুজ্জামান নুরুর কথোপকথন হয় বলে জানা গেছে। ওই কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডে প্রশাসন কিংবা আদালতের দ্বারস্থ হলে আইসিটি আইনে মামলা করে সাজা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উজালী বেগম।

উজালী বেগম বলেন, “আমাকে সব সময় ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেড় থেকে দুই বছরের সাজা দেওয়ার কথা বলে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেব’

অভিযোগের বিষয়ে তহশিলদার নুরুজ্জামান নুরুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে কেউ যদি অপপ্রচার চালায়, আইসিটি আইনে উপজেলা ভূমি কমিশনারকে দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আমি বলেছি।”

আইসিটি আইনে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, পারেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্যারকে দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”

এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

একজন সরকারি সেবা গ্রহীতা নিজের অধিকার আদায়ের জন্য প্রশাসন বা আদালতের দ্বারস্থ হলে তাকে মামলা ও সাজা দেওয়ার ভয় দেখানো কতটা বিধিসম্মত—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অপপ্রচার’ চালালে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার কার এবং একজন তহশিলদার কীভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন—এ বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যের আইনগত ভিত্তি খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা চলাচলের রাস্তা দ্রুত উন্মুক্ত করে তাদের স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তহশিলদারের বিরুদ্ধে ওঠা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সাজা দেওয়ার হুমকির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল পোর্ট থানার বিশেষ অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ৭ আসামিসহ গ্রেপ্তার ৮

‘আইসিটি আইনে মামলা ও সাজা’র হুমকি তহশিলদারের বিরুদ্ধে

আপডেট: ১১:০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসুমপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীকে ‘আইসিটি আইনে মামলা’ করে সাজা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার নুরুজ্জামান নুরুর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুর উপজেলার বজরুক সন্তোষপুর গ্রামের রওশন আরা বেগমসহ কয়েকটি পরিবারের চলাচলের রাস্তা প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। রাস্তা উদ্ধারের জন্য উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

সম্প্রতি রাস্তা বন্ধের বিষয়টি নিয়ে রওশন আরা বেগমের মেয়ে উজালী বেগমের সঙ্গে বালুয়া মাসুমপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার নুরুজ্জামান নুরুর কথোপকথন হয় বলে জানা গেছে। ওই কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডে প্রশাসন কিংবা আদালতের দ্বারস্থ হলে আইসিটি আইনে মামলা করে সাজা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উজালী বেগম।

উজালী বেগম বলেন, “আমাকে সব সময় ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেড় থেকে দুই বছরের সাজা দেওয়ার কথা বলে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেব’

অভিযোগের বিষয়ে তহশিলদার নুরুজ্জামান নুরুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে কেউ যদি অপপ্রচার চালায়, আইসিটি আইনে উপজেলা ভূমি কমিশনারকে দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আমি বলেছি।”

আইসিটি আইনে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, পারেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্যারকে দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”

এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

একজন সরকারি সেবা গ্রহীতা নিজের অধিকার আদায়ের জন্য প্রশাসন বা আদালতের দ্বারস্থ হলে তাকে মামলা ও সাজা দেওয়ার ভয় দেখানো কতটা বিধিসম্মত—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অপপ্রচার’ চালালে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার কার এবং একজন তহশিলদার কীভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন—এ বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যের আইনগত ভিত্তি খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা চলাচলের রাস্তা দ্রুত উন্মুক্ত করে তাদের স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তহশিলদারের বিরুদ্ধে ওঠা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সাজা দেওয়ার হুমকির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।