সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম বেগম এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি—এমন দাবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি ‘জাগরণ’ নামে একটি ফেসবুক পেজে মরিয়ম বেগমের এসএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে একটি কার্ড প্রকাশ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন।
তবে ওই পোস্টে দাবিটির পক্ষে পরীক্ষার ফলাফলের কোনো নথি বা সরকারি ফলাফল যাচাইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি। পরে এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানেও মরিয়ম বেগম এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম বেগমের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ভিডিওতে থাকা তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে মরিয়মকে বিয়ে করেন তিনি।
তবে বিয়ের দাবি ঘিরেও নানা প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মরিয়মের একটি বায়োডাটায় তাঁর জন্মতারিখ ২২ মে ২০০৮ এবং ২০২৬ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার তথ্য উল্লেখ ছিল। একই বায়োডাটায় বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে।
অন্যদিকে, মরিয়ম নিজেও এক ভিডিও বার্তায় গাজী নজরুল ইসলামকে তাঁর স্বামী বলে দাবি করেছেন। তাঁর বাবা মাসুম বিল্লাহও দাবি করেন, ১৭ জুন পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং সেখানে উভয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীও মরিয়মের সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিয়ে হয়েছে বলে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন।
এদিকে ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়েও বর্তমানে আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনা চলছে।
তবে মরিয়ম বেগমের এসএসসি ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির বিষয়ে **সরকারি ফলাফল বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নথি প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই**।




















