তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যশোরে আটক হয়েছেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের জেলা কমান্ডার হিসেবে পরিচিত তওসিকুল ইসলাম বিশ্বাস ওরফে তনিম বিশ্বাস। সোমবার রাতে শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়ার বিশ্বাসপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটক তনিম বিশ্বাস মৃত ওহিদুল বিশ্বাসের ছেলে। এর আগে ২০২১ সালে চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মুখে অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে জামিনে মুক্তি পেলেও পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে আসা বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে জানা যায়, তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের যশোর জেলা কমান্ডার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলাও হয়। প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর তনিমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সাড়ে চার বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তনিমের বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২০ এপ্রিলের পর থেকে তনিম প্রায়ই রাতে বাড়ির বাইরে থাকতেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে এসে স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। সর্বশেষ ৩ মে রাতেও তিনি বাড়িতে এসে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরদিন ৪ মে সকালে তিনি জানান, আগেই তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। এ সময় একটি কাগজ দেখানো হয়, যেখানে ২৬ এপ্রিল তালাকের তারিখ উল্লেখ ছিল।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত তার সঙ্গে একাধিকবার জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
মঙ্গলবার আটক তনিমকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, তনিম কারাগারে থাকাকালে তার পেছনে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। কারাগার থেকে মুক্তির পর তিনি আরও একটি বিয়ে করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ওষুধ ব্যবসার কথা বলে তাদের কাছ থেকে আরও প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।




















