০১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৫১৩

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ভিভিআইপি বিদেশ সফরের দ্বিতীয় ধাপে মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২১ জুন ঢাকা থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন রাতেই সরাসরি চীনের দালিয়ান প্রদেশে পৌঁছাবেন সরকারপ্রধান।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সফরে অংশ নেবে।

২১ জুন কুয়ালালামপুর পৌঁছানোর পর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সফরে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, তথ্য ও সম্প্রচার, সন্ত্রাস দমন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা এবং আরও কয়েকটি খাতে সমঝোতা স্মারক ও নোট অব এক্সচেঞ্জ সই হতে পারে। মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপদ অভিবাসন ও কর্মসংস্থান নিয়েও আলোচনা হবে দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে।

মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন রাতেই চীনের দালিয়ান প্রদেশে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ জুন তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্সে অংশ নেবেন। সেখানে বিশ্ব অর্থনীতি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় যোগ দেবেন তিনি। ফোরামের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের নেতা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

২৪ জুন বিকেলে দালিয়ান থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পাশাপাশি দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন সফর শেষে দেশে ফিরবেন তিনি।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৫টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে।

এছাড়া বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই), সবুজ উন্নয়ন, মুক্ত বাণিজ্য, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, মংলা সুবিধা প্রকল্প, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপ ও বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়েও সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এ সফর বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বৈদেশিক নীতির প্রতিফলন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করাই এ সফরের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন তারা।

সর্বাধিক পঠিত

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বামী

মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,

আপডেট: ০৯:৫৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ভিভিআইপি বিদেশ সফরের দ্বিতীয় ধাপে মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২১ জুন ঢাকা থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন রাতেই সরাসরি চীনের দালিয়ান প্রদেশে পৌঁছাবেন সরকারপ্রধান।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সফরে অংশ নেবে।

২১ জুন কুয়ালালামপুর পৌঁছানোর পর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সফরে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, তথ্য ও সম্প্রচার, সন্ত্রাস দমন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা এবং আরও কয়েকটি খাতে সমঝোতা স্মারক ও নোট অব এক্সচেঞ্জ সই হতে পারে। মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপদ অভিবাসন ও কর্মসংস্থান নিয়েও আলোচনা হবে দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে।

মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন রাতেই চীনের দালিয়ান প্রদেশে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ জুন তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্সে অংশ নেবেন। সেখানে বিশ্ব অর্থনীতি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় যোগ দেবেন তিনি। ফোরামের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের নেতা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

২৪ জুন বিকেলে দালিয়ান থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পাশাপাশি দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন সফর শেষে দেশে ফিরবেন তিনি।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৫টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে।

এছাড়া বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই), সবুজ উন্নয়ন, মুক্ত বাণিজ্য, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, মংলা সুবিধা প্রকল্প, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপ ও বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়েও সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এ সফর বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বৈদেশিক নীতির প্রতিফলন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করাই এ সফরের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন তারা।