১১:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বামী

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:২২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৫০৭

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাকিবুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। কন্যাসন্তান হওয়ার কারণে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ছয় মাস বয়সি দুই শিশুকে নিয়ে এখন অসহায় জীবনযাপন করছেন মা রীনা খাতুন।

সম্প্রতি উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের পুরাতন কোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পুরাতন কোলা গ্রামের প্রয়াত পীর বক্সের মেয়ে রীনা খাতুনের (২২) সঙ্গে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর রীনা অন্তঃসত্ত্বা হন। পরে চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানা যায়, তার গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। এ খবর জানার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আচরণ বদলে যায় বলে অভিযোগ করেন রীনা।

তার দাবি, গর্ভে কন্যাসন্তান থাকার খবর জানার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ দেওয়া শুরু হয়, যা একপর্যায়ে শারীরিক নির্যাতনেও রূপ নেয়। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানে প্রায় ছয় মাস আগে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

রীনার অভিযোগ, সন্তান জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়সি দুই শিশুর কোনো খোঁজখবর নেয়নি স্বামী কিংবা তার পরিবার। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। থানা-পুলিশের শরণাপন্ন হয়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি তার। এরই মধ্যে কয়েক দিন আগে ডাকযোগে স্বামী রাকিবুলের পাঠানো তালাকনামা হাতে পান তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রীনা বলেন, “কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া কি আমার অপরাধ? মেয়েসন্তান হওয়ার কারণে আমাকে অপমান ও নির্যাতন করা হয়েছে। পরে যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে শেষ পর্যন্ত তালাক দেওয়া হলো। আমার দুই শিশুর জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকার খাবার কিনতে হয়। বাবা নেই, বিধবা মায়ের পক্ষে এই খরচ বহন করা খুবই কষ্টকর। আমাকে না দেখুক, অন্তত নিজের সন্তানদের দায়িত্ব তো নেওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে তিনি প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন। পরে রীনাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে তিনি অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি শুধু পারিবারিক নয়, সামাজিকভাবেও উদ্বেগজনক। কন্যাসন্তান জন্মকে কেন্দ্র করে এমন আচরণ নারী ও শিশু অধিকারবিরোধী এবং এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বামী

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বামী

আপডেট: ১১:২২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাকিবুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। কন্যাসন্তান হওয়ার কারণে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ছয় মাস বয়সি দুই শিশুকে নিয়ে এখন অসহায় জীবনযাপন করছেন মা রীনা খাতুন।

সম্প্রতি উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের পুরাতন কোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পুরাতন কোলা গ্রামের প্রয়াত পীর বক্সের মেয়ে রীনা খাতুনের (২২) সঙ্গে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর রীনা অন্তঃসত্ত্বা হন। পরে চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানা যায়, তার গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। এ খবর জানার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আচরণ বদলে যায় বলে অভিযোগ করেন রীনা।

তার দাবি, গর্ভে কন্যাসন্তান থাকার খবর জানার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ দেওয়া শুরু হয়, যা একপর্যায়ে শারীরিক নির্যাতনেও রূপ নেয়। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানে প্রায় ছয় মাস আগে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

রীনার অভিযোগ, সন্তান জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়সি দুই শিশুর কোনো খোঁজখবর নেয়নি স্বামী কিংবা তার পরিবার। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। থানা-পুলিশের শরণাপন্ন হয়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি তার। এরই মধ্যে কয়েক দিন আগে ডাকযোগে স্বামী রাকিবুলের পাঠানো তালাকনামা হাতে পান তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রীনা বলেন, “কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া কি আমার অপরাধ? মেয়েসন্তান হওয়ার কারণে আমাকে অপমান ও নির্যাতন করা হয়েছে। পরে যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে শেষ পর্যন্ত তালাক দেওয়া হলো। আমার দুই শিশুর জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকার খাবার কিনতে হয়। বাবা নেই, বিধবা মায়ের পক্ষে এই খরচ বহন করা খুবই কষ্টকর। আমাকে না দেখুক, অন্তত নিজের সন্তানদের দায়িত্ব তো নেওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে তিনি প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন। পরে রীনাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে তিনি অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি শুধু পারিবারিক নয়, সামাজিকভাবেও উদ্বেগজনক। কন্যাসন্তান জন্মকে কেন্দ্র করে এমন আচরণ নারী ও শিশু অধিকারবিরোধী এবং এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।