ইরান যদি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে, তবে দেশটির ওপর ‘নরক নেমে আসবে’ বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে তারা যদি এ অবস্থান থেকে সরে এসে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা চালায়, তাহলে তাদের এমন পরিণতি ভোগ করতে হবে যা অতীতে কখনো ঘটেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, তেহরান যদি কোনোভাবে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের ‘অকল্পনীয় ও অবিশ্বাস্য কঠিন ফলাফল’ মোকাবিলা করতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, কাতারসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশের উপস্থিতিতে ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তবে ওয়াশিংটন ইরানের মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে পুরোপুরি আশ্বস্ত নয় বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিন প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজরদারি বজায় রেখেছে এবং প্রয়োজন হলে জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, জি-৭ সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কঠোর বার্তা। মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণে প্রস্তুত— এমন বার্তাই এতে স্পষ্ট হয়েছে।
কাতারের আমির শেখ তামিমের সঙ্গে বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইরানকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা





















