দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত নওগাঁ, কক্সবাজার, খুলনা, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে
নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে দুর্বৃত্তরা একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। নিহতরা হলেন— হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের দুই সন্তান পারভেজ (১০) ও সাদিয়া (৩)।
পুলিশ জানায়, হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে এবং শিশুদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গরু বিক্রির প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া এলাকার গহীন পাহাড় থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন— মুজিবুর রহমান, নুরুল বশর ও রবি।
স্থানীয়দের ধারণা, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এ পাঠিয়েছে।
মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নে নদীর তীরে পুঁতে রাখা অবস্থায় অর্ধগলিত এক নারী ও একটি নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, নারীটি ৭-৮ মাসের গর্ভবতী ছিলেন এবং মৃত্যুর সময় নবজাতক তার পেটেই ছিল। পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।
খুলনা মহানগরীর নিরালা এলাকায় উৎস রায় (বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী) নামে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
রায়গঞ্জ উপজেলার ফুলজোড় নদীর পাশ থেকে জাহের আলী আকন্দ (৬৫) নামে এক অটোভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলো ইতোমধ্যে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ চলছে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় একদিনে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।




















