০৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নড়াইলের স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়ন: সন্তানের অধিকার ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৪৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৯

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা-তে স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মোছাঃ ফারহানা আক্তার। নিজের ও একমাত্র সন্তানের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) লোহাগড়া প্রেসক্লাব-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারহানা জানান, ২০০৯ সালে লক্ষীপাশা গ্রামের মৃত রুফল মোল্লার ছেলে মুকুল মোল্লার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি, ভাসুর ও ননদদের পক্ষ থেকে যৌতুকের দাবিতে তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক পুত্র সন্তান—মোঃ ফারদিন মোল্লা। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন স্থানে কাজ করার পর সর্বশেষ মুকুল মোল্লা পৌর শহরের রামপুর এলাকার একটি পিকনিক স্পটে চাকরি নেন। কিন্তু গত ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফারহানার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর কিছুদিন শ্বশুরবাড়িতে থাকলেও গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে শাশুড়ি, ভাসুর ও ননদরা তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। এ সময় তার ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও আটকে রাখা হয়।

বর্তমানে ছোট সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। সন্তানের পড়াশোনা, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন ফারহানা। সহানুভূতির ভিত্তিতে একটি পার্কে স্বল্প বেতনে কাজ করে কোনোভাবে জীবনযাপন করছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে পার্ক ও বর্তমান আশ্রয়স্থল থেকেও সরিয়ে দেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফারহানা আক্তার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন—
“আমি আমার সন্তানকে নিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচতে চাই। আমার স্বামী ও সন্তানের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে আপনাদের সহযোগিতা চাই।”
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে একজন অসহায় নারী ও তার শিশুসন্তান ন্যায়বিচার পেতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

সংরক্ষিত নারী আসনে যশোর থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন সাবিরা সুলতানা মুন্নী

নড়াইলের স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়ন: সন্তানের অধিকার ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: ০৮:৪৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা-তে স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মোছাঃ ফারহানা আক্তার। নিজের ও একমাত্র সন্তানের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) লোহাগড়া প্রেসক্লাব-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারহানা জানান, ২০০৯ সালে লক্ষীপাশা গ্রামের মৃত রুফল মোল্লার ছেলে মুকুল মোল্লার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি, ভাসুর ও ননদদের পক্ষ থেকে যৌতুকের দাবিতে তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক পুত্র সন্তান—মোঃ ফারদিন মোল্লা। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন স্থানে কাজ করার পর সর্বশেষ মুকুল মোল্লা পৌর শহরের রামপুর এলাকার একটি পিকনিক স্পটে চাকরি নেন। কিন্তু গত ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফারহানার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর কিছুদিন শ্বশুরবাড়িতে থাকলেও গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে শাশুড়ি, ভাসুর ও ননদরা তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। এ সময় তার ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও আটকে রাখা হয়।

বর্তমানে ছোট সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। সন্তানের পড়াশোনা, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন ফারহানা। সহানুভূতির ভিত্তিতে একটি পার্কে স্বল্প বেতনে কাজ করে কোনোভাবে জীবনযাপন করছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে পার্ক ও বর্তমান আশ্রয়স্থল থেকেও সরিয়ে দেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফারহানা আক্তার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন—
“আমি আমার সন্তানকে নিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচতে চাই। আমার স্বামী ও সন্তানের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে আপনাদের সহযোগিতা চাই।”
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে একজন অসহায় নারী ও তার শিশুসন্তান ন্যায়বিচার পেতে পারে।