সংসারের সচ্ছলতা আর স্ত্রী-সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় চার বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচভূলাট গ্রামের কামরুল ইসলাম। বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত প্রতিটি টাকা তিনি পাঠিয়েছেন দেশে—স্ত্রী কাকলি খাতুনের কাছে। কিন্তু সেই বিশ্বাস আর ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে এখন তিনি পেয়েছেন প্রতারণা, ভাঙা স্বপ্ন আর সন্তানের জন্য অসহায় আর্তনাদ।
অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ২০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে প্রতিবেশী ছোট ভাই আশরাফুলের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন কাকলি। গত ৪ এপ্রিলের পর থেকেই তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে টাকার ক্ষতির চেয়েও বেশি দুঃসহ হয়ে উঠেছে কামরুলের জন্য তার আট বছরের শিশু সন্তান তাসকিন হোসেনের নিখোঁজ হওয়া। ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
কামরুল ইসলাম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে সাতক্ষীরার তুজলপুর গ্রাম থেকে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে অশান্তি থাকলেও সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কিছু সহ্য করে গেছেন তিনি। এমনকি স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রীর নামে জমিও কিনেছিলেন শার্শায়।
চার বছর আগে বিদেশে যাওয়ার পর থেকে প্রতি মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা পাঠাতেন তিনি। ঈদ বা বিশেষ উপলক্ষে সেই পরিমাণ আরও বেড়ে যেত। স্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করতেন, সব টাকা ব্যাংকে সঞ্চিত রয়েছে। কিন্তু সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কাকলি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
ঘটনার দিন সব সঞ্চয় ও গয়না নিয়ে পালানোর আগে মোবাইলে কামরুলকে সন্তান হত্যার হুমকিও দেন কাকলি। এরপর থেকেই নিখোঁজ তাসকিন।
প্রবাসে বসে অসহায়ের মতো কাঁদছেন কামরুল। তার আকুতি—
“আমি ওর মন পাইনি, আর পেতেও চাই না। কিন্তু আমার কলিজার টুকরা সন্তানটা কোথায়? ও কী খাচ্ছে, কোথায় আছে—আমি শুধু আমার সন্তানকে ফিরে পেতে চাই।”
এদিকে কাকলির মা লতা খাতুন জানান, মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না এবং এমন ঘটনার তিনি নিন্দা জানান। অন্যদিকে আশরাফুলের মা-ও এই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, কারণ কাকলি বয়সে আশরাফুলের চেয়ে বড়।
স্থানীয়ভাবে এ ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাকলি, আশরাফুল কিংবা শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।





















