১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

যবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে হট্টগোল, সভা শেষ না করেই ভিসির প্রস্থান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:২৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১২

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)-এ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নবনিযুক্ত উপাচার্যের মতবিনিময় সভা ছাত্ররাজনীতি ইস্যুতে হট্টগোলে পণ্ড হয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠান শেষ না করেই সভাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন উপাচার্য ড. ইয়ারুল কবীর।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরীফ হোসেন গ্যালারিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল যবিপ্রবির পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. ইয়ারুল কবীর। দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বিষয়ে মতামত নেওয়ার লক্ষ্যে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভার এক পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি পুনরায় চালুর দাবি তোলে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এর তীব্র বিরোধিতা করে।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকলে পাল্টা হিসেবে ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা অন্যদের ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হলে শিক্ষক ও কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপাচার্য সভাস্থল ত্যাগ করেন।
সভা পণ্ড হওয়ার পর উভয় পক্ষ প্রশাসনিক ভবনের নিচে অবস্থান নেয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাসে রাজনীতি চলবে না’ স্লোগান দিতে থাকেন। অন্যদিকে, ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি স্যারের অপমান সইব না’ এবং ‘ক্যাম্পাসে মববাজি চলবে না’ বলে স্লোগান দেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যবিপ্রবির ১০৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতীতে ছাত্ররাজনীতিকে কেন্দ্র করে হত্যা ও টেন্ডারবাজির মতো ঘটনা ঘটায় তারা নতুন করে রাজনীতি ফেরানোর বিরোধিতা করছেন।
অন্যদিকে, ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থী সালেক খান অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী উপাচার্যকে জিম্মি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
ঘটনার বিষয়ে উপাচার্য ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সকল প্রকার দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং রাজনৈতিক ব্যানারে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখতে সব ধরনের বিশৃঙ্খলা ও মববাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে ৫০ শয্যা হাসপাতাল ও শ্রমিক মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

যবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে হট্টগোল, সভা শেষ না করেই ভিসির প্রস্থান

আপডেট: ০৭:২৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)-এ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নবনিযুক্ত উপাচার্যের মতবিনিময় সভা ছাত্ররাজনীতি ইস্যুতে হট্টগোলে পণ্ড হয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠান শেষ না করেই সভাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন উপাচার্য ড. ইয়ারুল কবীর।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরীফ হোসেন গ্যালারিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল যবিপ্রবির পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. ইয়ারুল কবীর। দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বিষয়ে মতামত নেওয়ার লক্ষ্যে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভার এক পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি পুনরায় চালুর দাবি তোলে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এর তীব্র বিরোধিতা করে।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকলে পাল্টা হিসেবে ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা অন্যদের ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হলে শিক্ষক ও কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপাচার্য সভাস্থল ত্যাগ করেন।
সভা পণ্ড হওয়ার পর উভয় পক্ষ প্রশাসনিক ভবনের নিচে অবস্থান নেয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাসে রাজনীতি চলবে না’ স্লোগান দিতে থাকেন। অন্যদিকে, ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি স্যারের অপমান সইব না’ এবং ‘ক্যাম্পাসে মববাজি চলবে না’ বলে স্লোগান দেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যবিপ্রবির ১০৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতীতে ছাত্ররাজনীতিকে কেন্দ্র করে হত্যা ও টেন্ডারবাজির মতো ঘটনা ঘটায় তারা নতুন করে রাজনীতি ফেরানোর বিরোধিতা করছেন।
অন্যদিকে, ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থী সালেক খান অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী উপাচার্যকে জিম্মি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
ঘটনার বিষয়ে উপাচার্য ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সকল প্রকার দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং রাজনৈতিক ব্যানারে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখতে সব ধরনের বিশৃঙ্খলা ও মববাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।