নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা গ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে অন্তত ২৫টি জেলে পরিবারের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্রমিক দিয়ে দ্রুত এই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। এতে করে গ্রামের ভেতরের বসতবাড়ির সঙ্গে মূল সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবি, লক্ষ্মীপাশা মৌজার এই পথটি সরকারি রেকর্ডভুক্ত (এসএ ও আরএস নকশা এবং ১/১ খতিয়ানভুক্ত) এবং ব্রিটিশ আমল থেকে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি এলাকার দেদার-ই-এলাহী ও তার সহযোগীরা ওই জমিতে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে হঠাৎ করেই পথটি বন্ধ হয়ে যায়।
অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর মধ্যে হারানচন্দ্র বিশ্বাস ও ভ্যানচালক ধ্রুব বিশ্বাস জানান, এর আগেও দু’বার এই পথটি বন্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে পথ বন্ধ থাকায় ধ্রুব বিশ্বাস তার ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছেন না। জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, এমনকি নারীরাও স্বাভাবিকভাবে বাইরে যেতে পারছেন না। অনেকেই বাধ্য হয়ে মই দিয়ে দেয়াল টপকে চলাচল করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু হওয়ায় তাদের ওপর এই ধরনের নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং তাদের এলাকা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে দেদার-ই-এলাহী বলেন, জমিটি তাদের বৈধভাবে কেনা সম্পত্তি এবং জেলা প্রশাসন থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যে ২২৬ দাগে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে, তা নিয়ে কোনো মামলা নেই। এছাড়া জেলেদের চলাচলের জন্য বিকল্প একটি রাস্তা রয়েছে, যা স্কুল মাঠের পাশ দিয়ে গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধ করতেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাম্মী কায়সার জানান, ঘটনাটি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ডাকা হয়েছে এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।





















