০৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে নেপালে জিম্মি বাঘারপাড়ার কলেজছাত্র,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১০

সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর প্রলোভনে যশোরের বাঘারপাড়ার কলেজছাত্র সাকিব হোসেন (২১)কে নেপালে নিয়ে জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ মার্চ থেকে তার কোনো খোঁজ না মেলায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার। দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তার বাবা, ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় জমি বিক্রি, এনজিও ঋণ এবং বসতভিটা বন্ধক রেখে প্রায় ১৫ লাখ টাকা দালালদের হাতে তুলে দেন আলমগীর হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সাকিবকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা ডলার ছিনিয়ে নিয়ে তাকে জিম্মি করে রাখা হয়।
পরবর্তীতে মুক্তিপণ হিসেবে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করা হলে ধার-দেনা করে সেই টাকাও পাঠান তার বাবা। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও সাকিবকে মুক্তি না দিয়ে বরং নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় পাচারকারীরা বলে অভিযোগ পরিবারের।
বাঘারপাড়ার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মাথা গোঁজার ভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। শেষ সম্বল ভ্যানটিও বিক্রি করেছি। এখন ঋণের বোঝা মাথায়, কিন্তু ছেলের কোনো খোঁজ নেই। আমার টাকা লাগবে না, আমি শুধু আমার ছেলেকে ফেরত চাই।”

সাকিবের মা সোনালী বেগম জানান, গত ৯ মার্চের পর থেকে ছেলের সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। এতে করে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে বাঘারপাড়া থানায় মামলাটি এজাহারভুক্ত হয়েছে। মামলায় একই গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও নাজমুল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোবিন্দ কুমার মণ্ডল জানান, মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

এদিকে মামলা করায় দালালচক্রের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একদিকে নিখোঁজ সন্তান, অন্যদিকে ঋণের চাপ—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবারটি।

সর্বাধিক পঠিত

সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১ দলের ঘোষণা

অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে নেপালে জিম্মি বাঘারপাড়ার কলেজছাত্র,

আপডেট: ০৪:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর প্রলোভনে যশোরের বাঘারপাড়ার কলেজছাত্র সাকিব হোসেন (২১)কে নেপালে নিয়ে জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ মার্চ থেকে তার কোনো খোঁজ না মেলায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার। দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তার বাবা, ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় জমি বিক্রি, এনজিও ঋণ এবং বসতভিটা বন্ধক রেখে প্রায় ১৫ লাখ টাকা দালালদের হাতে তুলে দেন আলমগীর হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সাকিবকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা ডলার ছিনিয়ে নিয়ে তাকে জিম্মি করে রাখা হয়।
পরবর্তীতে মুক্তিপণ হিসেবে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করা হলে ধার-দেনা করে সেই টাকাও পাঠান তার বাবা। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও সাকিবকে মুক্তি না দিয়ে বরং নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় পাচারকারীরা বলে অভিযোগ পরিবারের।
বাঘারপাড়ার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মাথা গোঁজার ভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। শেষ সম্বল ভ্যানটিও বিক্রি করেছি। এখন ঋণের বোঝা মাথায়, কিন্তু ছেলের কোনো খোঁজ নেই। আমার টাকা লাগবে না, আমি শুধু আমার ছেলেকে ফেরত চাই।”

সাকিবের মা সোনালী বেগম জানান, গত ৯ মার্চের পর থেকে ছেলের সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। এতে করে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে বাঘারপাড়া থানায় মামলাটি এজাহারভুক্ত হয়েছে। মামলায় একই গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও নাজমুল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোবিন্দ কুমার মণ্ডল জানান, মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

এদিকে মামলা করায় দালালচক্রের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একদিকে নিখোঁজ সন্তান, অন্যদিকে ঋণের চাপ—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবারটি।