জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক-এর নির্দেশে দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর এক কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী-এর একক বেঞ্চে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এ তথ্য জানান। নিরাপত্তার কারণে সাক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে ফোন করেন বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ-কে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) অপারেটরদের আপস্ট্রিম বা ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন পলক।
এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য আইটিসি অপারেটরদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সাক্ষী তার অফিসিয়াল নম্বর থেকে ‘১৮ জুলাই আইটিসি অপারেশনস’ নামে একটি গ্রুপ খুলে অপারেটরদের যুক্ত করেন। গ্রুপ কলের মাধ্যমে তাদের ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বন্ধের নির্দেশনা জানানো হয়। ওই দিন রাত ৯টার মধ্যেই অপারেটররা ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়, যা ২৩ জুলাই পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় আসামি হিসেবে পলকের পাশাপাশি রয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। পলাতক থাকায় তার পক্ষে আদালতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম শুনানি পরিচালনা করছেন।
সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যক্রম মুলতবি করেছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, মঈনুল করিম ও সুলতান মাহমুদসহ অন্যান্যরা।
এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসান-এর বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষীর জেরা শেষ হয়েছে। এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
অন্যদিকে, যশোরের চৌগাছায় ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আগামী ২০ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এই আদেশ দেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল।
**প্রসঙ্গত**, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং এসব ঘটনায় দায়ীদের বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে।




















