১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

তীব্র তাপপ্রবাহের পর কালবৈশাখীর তাণ্ডব, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বজ্রপাতে নিহত ৫, যশোরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:১৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৮

কয়েক সপ্তাহের তীব্র তাপপ্রবাহের পর হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর শুরু হওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি, বিধ্বস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি এবং উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা। ফলে দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে।

যশোরে ঝড় ও বজ্রপাতে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৬টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং ২০টির বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে যায়। দীর্ঘ তাপদাহের পর হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গিয়ে শুরু হয় প্রবল ঝড় ও বজ্রপাত, যা মুহূর্তেই জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে।

মণিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে মাঠে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে কৃষক লুৎফর রহমান সরদার নিহত হন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা, ঝাপা, হরিহরনগর ও রাজগঞ্জ এলাকায় ঝড়ের আঘাতে গাছ উপড়ে পড়ে এবং ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়। বিদ্যুতের খুঁটির ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

কেশবপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১৫০ বিঘা জমির বোরো ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালের ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে অন্তত ৯ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং এক কৃষক আহত হয়েছেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও দর্শনায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় বাবার জন্য মাঠে খাবার নিয়ে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিমুল আজিম। এছাড়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বজ্রপাতে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে।
চৌগাছা উপজেলায় বজ্রপাতে একটি বিশাল কড়াই গাছ মাঝখান থেকে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়, যার অংশ ছিটকে পড়ে দূর-দূরান্তে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বাঁকড়া ইউনিয়নে ঝড়ে বসতঘর ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ঘরের ওপর গাছ পড়ে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং টিনের চাল উড়ে গেছে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ে অন্তত ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং বহু স্থানে তারের ওপর গাছ পড়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তবে দ্রুত সব এলাকায় সংযোগ চালু করা সম্ভব নাও হতে পারে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কিছু এলাকায় ধান হেলে পড়লেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম। বরং ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ধানের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কোথাও ক্ষতি হয়ে থাকলে তা নিরূপণে কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে ‘বিতর্কিত’ রসুল আটক, নাশকতা মামলায় কারাগারে প্রেরণ

তীব্র তাপপ্রবাহের পর কালবৈশাখীর তাণ্ডব, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বজ্রপাতে নিহত ৫, যশোরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট: ০৯:১৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কয়েক সপ্তাহের তীব্র তাপপ্রবাহের পর হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর শুরু হওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি, বিধ্বস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি এবং উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা। ফলে দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে।

যশোরে ঝড় ও বজ্রপাতে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৬টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং ২০টির বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে যায়। দীর্ঘ তাপদাহের পর হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গিয়ে শুরু হয় প্রবল ঝড় ও বজ্রপাত, যা মুহূর্তেই জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে।

মণিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে মাঠে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে কৃষক লুৎফর রহমান সরদার নিহত হন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা, ঝাপা, হরিহরনগর ও রাজগঞ্জ এলাকায় ঝড়ের আঘাতে গাছ উপড়ে পড়ে এবং ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়। বিদ্যুতের খুঁটির ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

কেশবপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১৫০ বিঘা জমির বোরো ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালের ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে অন্তত ৯ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং এক কৃষক আহত হয়েছেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও দর্শনায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় বাবার জন্য মাঠে খাবার নিয়ে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিমুল আজিম। এছাড়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বজ্রপাতে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে।
চৌগাছা উপজেলায় বজ্রপাতে একটি বিশাল কড়াই গাছ মাঝখান থেকে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়, যার অংশ ছিটকে পড়ে দূর-দূরান্তে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বাঁকড়া ইউনিয়নে ঝড়ে বসতঘর ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ঘরের ওপর গাছ পড়ে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং টিনের চাল উড়ে গেছে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ে অন্তত ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং বহু স্থানে তারের ওপর গাছ পড়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তবে দ্রুত সব এলাকায় সংযোগ চালু করা সম্ভব নাও হতে পারে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কিছু এলাকায় ধান হেলে পড়লেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম। বরং ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ধানের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কোথাও ক্ষতি হয়ে থাকলে তা নিরূপণে কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন।