যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা পালবাড়ী এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। মাটির তৈরি চাড়ি (বড় পাত্র) জোরপূর্বক কেড়ে নিতে বাধা দেওয়ায় আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— বাগডাঙ্গা পালবাড়ী এলাকার অশোক কুমার পালের ছেলে ও পেশায় কুমার সাধন কুমার পাল (৩২) এবং তার বন্ধু একই এলাকার মৃত কাজী আব্দুস সোবহানের ছেলে তৈয়েবুর (৪০)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সাধন কুমার পাল একজন মৃৎশিল্পী। সকালে তিনি তার নিপুণ হাতে তৈরি করা মাটির চাড়িগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে বাড়ির আঙিনায় গুছিয়ে রাখছিলেন। এসময় একই এলাকার বাসিন্দা জলিল (৪৪), শাহিন (৩৪) ও খোকন (৩৮) সেখানে উপস্থিত হয়ে জোরপূর্বক বেশ কিছু চাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সাধন এতে বাধা দিলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং লাঠি ও সাথে থাকা দা’য়ের উল্টো পাশ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে।
বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে রক্তাক্ত তৈয়েবুর
ঘটনার সময় পাশেই ছিলেন সাধনের বন্ধু তৈয়েবুর। নিজের বন্ধুকে আক্রান্ত হতে দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসেন এবং হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এসময় সন্ত্রাসীরা আরও হিংস্র হয়ে ওঠে এবং তৈয়েবুরকে লক্ষ্য করে দা দিয়ে কোপ মারে। দা’য়ের কোপ সরাসরি তৈয়েবুরের মাথায় লাগলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুই বন্ধুকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।:
* সাধন কুমার পাল: তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তা আশঙ্কাজনক না হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
* তৈয়েবুর: তার মাথার ক্ষতটি বেশ গভীর হওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে।
এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।





















