০২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝিকরগাছায় বেনাপোল কমিউটার ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে হস্তান্তর

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫৮

যশোরের ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে বেনাপোল কমিউটার ট্রেন (৫৩ বেতনা) সার্ভিসের টিকিট ব্যবস্থাপনা সরকারি খাত থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রথম দিনেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) স্টেশন কাউন্টারে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বহুগুণ বেশি টিকিট বিক্রি হতে দেখা গেছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ায় যাত্রীসাধারণের মধ্যেও স্বস্তি ও সন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর বেনাপোল–খুলনা রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ওই সময় ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনের প্রথম স্টেশন মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল মান্নান। দীর্ঘদিন সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ার পর ২০১০ সালে একবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হলেও নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ২০১৩ সালে পুনরায় সরকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল নতুন দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে তিন বছরের জন্য বেনাপোল কমিউটার ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’-কে
স্টেশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে খুলনা থেকে বেনাপোলগামী ট্রেনের টিকিট ঝিকরগাছা কাউন্টার থেকে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৩–৪টি বিক্রি হতো। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রথম দিনেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪০টিতে।

অন্যদিকে, বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা মোংলাগামী ট্রেনেও যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। যেখানে আগে দৈনিক ৫০–৬০টি টিকিট বিক্রি হতো, সেখানে রবিবার শতাধিক টিকিট বিক্রি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— যাত্রীভাড়া পূর্বনির্ধারিত সরকারি হারেই বহাল রয়েছে, কোনো অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রথম দিনেই স্টেশনের প্রতিটি প্রবেশ ও বহির্গমন পথে ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’-এর প্রতিনিধিদের কড়া তদারকি লক্ষ্য করা গেছে। টিকিটবিহীন যাত্রী চলাচল রোধ, লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কালোবাজারি ঠেকাতে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
একই সঙ্গে রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও স্টেশনে উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
“রেলওয়ের দপ্তরাদেশ অনুযায়ী আজ থেকে ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’ বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে। আমরা আমাদের নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার কাজও নিয়মিত তদারকি করবো, যাতে যাত্রীসেবা বিঘ্নিত না হয়।”
যাত্রীদের অনেকেই জানান, আগের তুলনায় এখন টিকিট পেতে ভোগান্তি কমেছে এবং স্টেশনে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সেবার মান বজায় থাকলে এই উদ্যোগ যাত্রীবান্ধব রেলসেবার একটি সফল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

সর্বাধিক পঠিত

সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা ‘পরিকল্পিত’: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

ঝিকরগাছায় বেনাপোল কমিউটার ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে হস্তান্তর

আপডেট: ০৪:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে বেনাপোল কমিউটার ট্রেন (৫৩ বেতনা) সার্ভিসের টিকিট ব্যবস্থাপনা সরকারি খাত থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রথম দিনেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) স্টেশন কাউন্টারে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বহুগুণ বেশি টিকিট বিক্রি হতে দেখা গেছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ায় যাত্রীসাধারণের মধ্যেও স্বস্তি ও সন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর বেনাপোল–খুলনা রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ওই সময় ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনের প্রথম স্টেশন মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল মান্নান। দীর্ঘদিন সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ার পর ২০১০ সালে একবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হলেও নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ২০১৩ সালে পুনরায় সরকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল নতুন দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে তিন বছরের জন্য বেনাপোল কমিউটার ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’-কে
স্টেশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে খুলনা থেকে বেনাপোলগামী ট্রেনের টিকিট ঝিকরগাছা কাউন্টার থেকে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৩–৪টি বিক্রি হতো। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রথম দিনেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪০টিতে।

অন্যদিকে, বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা মোংলাগামী ট্রেনেও যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। যেখানে আগে দৈনিক ৫০–৬০টি টিকিট বিক্রি হতো, সেখানে রবিবার শতাধিক টিকিট বিক্রি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— যাত্রীভাড়া পূর্বনির্ধারিত সরকারি হারেই বহাল রয়েছে, কোনো অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রথম দিনেই স্টেশনের প্রতিটি প্রবেশ ও বহির্গমন পথে ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’-এর প্রতিনিধিদের কড়া তদারকি লক্ষ্য করা গেছে। টিকিটবিহীন যাত্রী চলাচল রোধ, লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কালোবাজারি ঠেকাতে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
একই সঙ্গে রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও স্টেশনে উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
“রেলওয়ের দপ্তরাদেশ অনুযায়ী আজ থেকে ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’ বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে। আমরা আমাদের নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার কাজও নিয়মিত তদারকি করবো, যাতে যাত্রীসেবা বিঘ্নিত না হয়।”
যাত্রীদের অনেকেই জানান, আগের তুলনায় এখন টিকিট পেতে ভোগান্তি কমেছে এবং স্টেশনে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সেবার মান বজায় থাকলে এই উদ্যোগ যাত্রীবান্ধব রেলসেবার একটি সফল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।