জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ন্ত্রণাধীন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনার রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে সংবেদনশীল পদে দায়িত্ব পালনকালে রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঘুষ ও রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তার মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত কাস্টম বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনের সময় রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। বন্ড ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রিভেন্টিভ টিমের মাধ্যমে অভিযান ও নাইট টহল পরিচালনা করে পরে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ছাড় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এককালীন অর্থের পাশাপাশি নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, মোংলা কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনের সময় এনবিআরের এক সাবেক সদস্যের সঙ্গে রাসেল আল মামুনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে ওই কর্মকর্তা বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পেলে রাসেলকেও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আসা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনের সময় গুলশান ও টঙ্গীর বন্ডেড ওয়্যারহাউসগুলো থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান এলাকার ওয়্যারহাউসগুলো থেকে মাসে প্রায় ১ কোটি টাকা এবং টঙ্গী সার্কেল থেকে ৫০-৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আনোয়ার গ্রুপের মালিকানাধীন ‘হোসেন ডাইং’ প্রতিষ্ঠানের অডিট নিয়ে ৩৫ লাখ টাকার গোপন চুক্তির অভিযোগ রয়েছে রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, যথাযথ অডিট ছাড়াই ফাইল অনুমোদন করে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে অভিযোগের পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনের সময় আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে পণ্য আটকে দেওয়া কিংবা মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন রাসেল আল মামুন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ এবং বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্লট, ফ্ল্যাট ও গাড়িসহ সম্পদ এবং নিকটাত্মীয়দের নামে সম্পত্তি কেনার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে রাসেল আল মামুনের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর স্ত্রীর করা নারী নির্যাতন ও যৌতুক দাবির মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি চলমান বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাজস্ব বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা ও রাসেল আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দুদকের সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার পরই এর সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।





















