০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলি, নিরাপদে সরানো হলো ২৯৩৩ পর্যটক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:২৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৮

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সাজেকের বাঘাইহাট উজোবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলাকালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, দুপুরে বাঘাইহাট উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালালে বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালান। কয়েক দফা গুলিবিনিময়ের পর হামলাকারীরা পিছু হটে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অবরোধের কারণে সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়েন প্রায় তিন হাজার পর্যটক। তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাঘাইছড়ি-সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন কর্মসূচির সমর্থকেরা। পরে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়া পর্যটকবাহী গাড়িবহর বাঘাইহাটের উজোবাজার এলাকায় আটকে দেওয়া হয়।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীর সদস্যরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যৌথবাহিনীর পাহারায় ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়।

এদিকে, স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাজেকের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে।

এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিহ্নিত সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন এ অবরোধের ডাক দিয়েছে।

এর আগে গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর একই দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাস এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, পর্যটকদের বহনকারী গাড়িবহরকে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির দিকে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।

সর্বাধিক পঠিত

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, কাঠগড়ায় উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিন

সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলি, নিরাপদে সরানো হলো ২৯৩৩ পর্যটক

আপডেট: ০৪:২৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সাজেকের বাঘাইহাট উজোবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলাকালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, দুপুরে বাঘাইহাট উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালালে বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালান। কয়েক দফা গুলিবিনিময়ের পর হামলাকারীরা পিছু হটে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অবরোধের কারণে সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়েন প্রায় তিন হাজার পর্যটক। তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাঘাইছড়ি-সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন কর্মসূচির সমর্থকেরা। পরে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়া পর্যটকবাহী গাড়িবহর বাঘাইহাটের উজোবাজার এলাকায় আটকে দেওয়া হয়।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীর সদস্যরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যৌথবাহিনীর পাহারায় ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়।

এদিকে, স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাজেকের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে।

এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিহ্নিত সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন এ অবরোধের ডাক দিয়েছে।

এর আগে গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর একই দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাস এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, পর্যটকদের বহনকারী গাড়িবহরকে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির দিকে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।