০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

যশোরে দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪১:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৪৩

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে যশোরে প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার, অপতৎপরতা প্রতিরোধ, যানবাহনে তল্লাশি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

সভায় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দুর্গাপূজায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করে মণ্ডপ ও প্রতিমাকেন্দ্রিক সীমিত পরিসরে আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, ব্যাপক আলোকসজ্জা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি জেনারেটর চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানি করতে হয়। তাই জাতীয় স্বার্থে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সভায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের অপতৎপরতা, অনুপ্রবেশ বা পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পূজামণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, ছিনতাই প্রতিরোধ এবং উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, এ বছর যশোর জেলায় মোট ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৭০৯টি। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ২৮টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে।

এ ছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি মন্দিরের জন্য সরকারি চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার কেজি করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল, ছিনতাই প্রতিরোধ এবং প্রশাসনের সঙ্গে পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা নিজ নিজ এলাকার প্রস্তুতি ও বিভিন্ন সমস্যার কথা সভায় তুলে ধরেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলার বিভিন্ন থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা, বিজিবি ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তাসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামে চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচা, পুলিশ কনস্টেবলসহ আটক ৫

যশোরে দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

আপডেট: ০৯:৪১:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে যশোরে প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার, অপতৎপরতা প্রতিরোধ, যানবাহনে তল্লাশি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

সভায় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দুর্গাপূজায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করে মণ্ডপ ও প্রতিমাকেন্দ্রিক সীমিত পরিসরে আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, ব্যাপক আলোকসজ্জা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি জেনারেটর চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানি করতে হয়। তাই জাতীয় স্বার্থে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সভায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের অপতৎপরতা, অনুপ্রবেশ বা পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পূজামণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, ছিনতাই প্রতিরোধ এবং উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, এ বছর যশোর জেলায় মোট ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৭০৯টি। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ২৮টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে।

এ ছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি মন্দিরের জন্য সরকারি চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার কেজি করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল, ছিনতাই প্রতিরোধ এবং প্রশাসনের সঙ্গে পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা নিজ নিজ এলাকার প্রস্তুতি ও বিভিন্ন সমস্যার কথা সভায় তুলে ধরেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলার বিভিন্ন থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা, বিজিবি ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তাসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।