০৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বিধবা নারীকে নির্যাতনের অভিযোগে বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল চিরতরে বহিষ্কার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৩

নেত্রকোনার বারহাট্টায় বিধবা নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে নিজের বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার পর দলীয় পদ ফিরে পেয়েছিলেন তিনি।
:

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে পুনরায় বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আপত্তিকর সহিংস কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার জন্য যুবদলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মোজাম্মেল হক সোহেলের ব্যক্তিগত বা সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ভার সংগঠন নেবে না। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার রাতে। নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক বারহাট্টা উপজেলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এ সময় বিক্রমশ্রী গ্রামের অর্চনা রানী দাস নামে এক বিধবা নারী তাঁর কাছে মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী সংসদ সদস্যের পা ধরে কান্নাকাটি করে তাঁর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় যুবদল দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে আইনগত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো পৃথক বিষয়।

মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। চলতি বছরের ৪ জুলাই নিজের বৃদ্ধ বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে তাঁকে প্রথমবারের মতো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

পরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তদবির এবং অসুস্থ বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সুপারিশের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাই তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে দলীয় পদ ফিরে পাওয়ার তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে প্রতিবেশী এক বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগে আবারও সাংগঠনিক শাস্তির মুখে পড়লেন তিনি। এবার তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোজাম্মেল হক সোহেল। তাঁর দাবি, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।

সোহেলের ভাষ্য, পাওনা টাকা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। প্রতিপক্ষের একটি চক্র ওই বিধবা নারীকে প্ররোচিত করে সংসদ সদস্যের কাছে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অসহায় ও সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ করার দাবি উঠেছে।

সচেতন মহলের মতে, দলীয় বহিষ্কার সাংগঠনিক শাস্তি হলেও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁকে নির্ভয়ে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

বারহাট্টায় বিধবা নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে যুবদল নেতার দ্বিতীয়বার বহিষ্কারের ঘটনা নেত্রকোনার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী নারীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিকেই নজর স্থানীয়দের।

সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামে চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচা, পুলিশ কনস্টেবলসহ আটক ৫

বিধবা নারীকে নির্যাতনের অভিযোগে বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল চিরতরে বহিষ্কার

আপডেট: ০৫:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার বারহাট্টায় বিধবা নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে নিজের বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার পর দলীয় পদ ফিরে পেয়েছিলেন তিনি।
:

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে পুনরায় বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আপত্তিকর সহিংস কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার জন্য যুবদলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মোজাম্মেল হক সোহেলের ব্যক্তিগত বা সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ভার সংগঠন নেবে না। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার রাতে। নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক বারহাট্টা উপজেলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এ সময় বিক্রমশ্রী গ্রামের অর্চনা রানী দাস নামে এক বিধবা নারী তাঁর কাছে মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী সংসদ সদস্যের পা ধরে কান্নাকাটি করে তাঁর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় যুবদল দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে আইনগত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো পৃথক বিষয়।

মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। চলতি বছরের ৪ জুলাই নিজের বৃদ্ধ বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে তাঁকে প্রথমবারের মতো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

পরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তদবির এবং অসুস্থ বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সুপারিশের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাই তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে দলীয় পদ ফিরে পাওয়ার তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে প্রতিবেশী এক বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগে আবারও সাংগঠনিক শাস্তির মুখে পড়লেন তিনি। এবার তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোজাম্মেল হক সোহেল। তাঁর দাবি, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।

সোহেলের ভাষ্য, পাওনা টাকা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। প্রতিপক্ষের একটি চক্র ওই বিধবা নারীকে প্ররোচিত করে সংসদ সদস্যের কাছে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অসহায় ও সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ করার দাবি উঠেছে।

সচেতন মহলের মতে, দলীয় বহিষ্কার সাংগঠনিক শাস্তি হলেও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁকে নির্ভয়ে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

বারহাট্টায় বিধবা নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে যুবদল নেতার দ্বিতীয়বার বহিষ্কারের ঘটনা নেত্রকোনার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী নারীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিকেই নজর স্থানীয়দের।