চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকায় চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সময় বান্দরবান জেলা পুলিশের এক কনস্টেবলসহ পাঁচজনকে আটক করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আটক কনস্টেবল অনিক দাশের একটি সংঘবদ্ধ চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় ওই কনস্টেবল ও তাঁর চার সহযোগীকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলমান চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচা ও পাচার চক্রে তাঁদের ভূমিকা এবং সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, নগরীতে সক্রিয় চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার প্রথমে চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বান্দরবান জেলা পুলিশে কর্মরত কনস্টেবল অনিক দাশসহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি জানান, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের সঙ্গে কনস্টেবল অনিক দাশের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে খুলশী থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। চক্রটির কার্যক্রম ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, সিএমপির অভিযানে তাঁদের জেলার এক পুলিশ কনস্টেবল আটক হওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। খুলশী থানা থেকে মামলার আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র পাওয়ার পর অভিযুক্ত কনস্টেবলের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয়, আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধচক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















