০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বিআরটিএ কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:২৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২৫

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ (দিয়াবাড়ী, উত্তরা)-এ কর্মরত উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) প্রকৌশলী সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শত কোটি টাকার অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দেওয়া ওই অভিযোগে বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগকারী সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা মহানগর অটোরিকশা চালক শ্রমিক ইউনিয়ন’ (রেজি. নং ঢাক-২২৪০)-এর সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারকে সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০১১ সালে সুব্রত দেবনাথ বিআরটিএতে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে যোগদানের পর বিভিন্ন সার্কেল ও সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সিএনজি অটোরিকশার প্রতিস্থাপন, নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম মেট্রো বিআরটিএতে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মাত্র চার মাসে ২০০৩ ও ২০০৪ মডেলের প্রায় ২ হাজার ৫০০টি সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপ ও প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়।

প্রতিটি গাড়ির বিপরীতে ৩ লাখ টাকা করে নেওয়ার মাধ্যমে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে। এ কাজে শোরুম মালিকদের একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও আনা হয়েছে।

তবে অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের পরিমাণ ও অনিয়মের বিষয়ে স্বাধীন কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে বদলি হয়ে ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২-এ দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ২ হাজার সিএনজি অটোরিকশার প্রতিস্থাপন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতিটি গাড়ির বিপরীতে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের দাবি করা হয়েছে।

একই সময়ে ঢাকা জেলা সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকাকালে প্রায় ৫০০টি সিএনজির নিবন্ধন নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়ার মাধ্যমে আরও প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে উপপরিচালক পদে পদোন্নতির পর সুব্রত দেবনাথ বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে উপপরিচালক (ইঞ্জি.)-৩ হিসেবে আন্তঃজেলা রুট পারমিট-সংক্রান্ত দায়িত্ব পান।

সেখানে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ৪০০টি স্লিপার বাসের রুট পারমিট দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিটি গাড়ির বিপরীতে ৫ লাখ টাকা হিসাবে প্রায় ২০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের দাবি করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সুব্রত দেবনাথকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলি করা হয়। পরে চলতি বছরের জুন মাসে তিনি আবার ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ (উত্তরা)-এর উপপরিচালক পদে যোগ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমান কর্মস্থলেও তাঁর প্রভাব বলয় অক্ষুণ্ন রয়েছে এবং বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগপত্রে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অর্থ অবৈধ পথে ভারতে পাচার করা হয়েছে। ভারতে তাঁর নামে ও বেনামে একাধিক বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকায় তাঁর নামে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট থাকার তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিদেশে অর্থ পাচার, ভারতে সম্পদ এবং দেশে স্থাবর সম্পত্তির বিষয়ে অভিযোগপত্রে যেসব দাবি করা হয়েছে, সেগুলোর স্বাধীন প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে সুব্রত দেবনাথের চাকরিজীবনের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব নথি, ফাইল, নিবন্ধন, রুট পারমিট এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে তাঁর সম্পদ, ব্যাংক লেনদেন এবং দেশ-বিদেশে সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী সংগঠনের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ঢাকা মহানগর অটোরিকশা চালক শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ, বিআরটিএর বিভিন্ন সার্কেলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ অনিয়মের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে সিএনজি অটোরিকশা ও বাস মালিকদের বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি।

তাদের ভাষ্য, এ ধরনের অভিযোগের কারণে পরিবহন খাতে বিআরটিএর সেবা নিয়ে সাধারণ মালিক ও চালকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৌশলী সুব্রত দেবনাথের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগটি নিয়ে দুদক বা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ফল জানানো হয়নি।

এ কারণে অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অর্থের পরিমাণ, সম্পদের তথ্য, বিদেশে অর্থ পাচার এবং বিভিন্ন সময়ে কথিত অনিয়মের বিষয়গুলোকে আপাতত অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তদন্ত ছাড়া এগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, কমিশন না থাকার সময় কিছু কার্যক্রমে ধীরগতি থাকলেও বর্তমান চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিআরটিএ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে জনসংযোগ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানের অনুমতি সাপেক্ষে শিগগিরই বিআরটিএতে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে দায়ের করা নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অভিযোগকারী পক্ষ।

তাদের দাবি, বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর ফাইল, নিবন্ধন ও রুট পারমিটের তথ্য, আর্থিক লেনদেন, সম্পদ বিবরণী এবং চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে সে বিষয়েও যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামে চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচা, পুলিশ কনস্টেবলসহ আটক ৫

বিআরটিএ কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ০৯:২৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ (দিয়াবাড়ী, উত্তরা)-এ কর্মরত উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) প্রকৌশলী সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শত কোটি টাকার অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দেওয়া ওই অভিযোগে বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগকারী সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা মহানগর অটোরিকশা চালক শ্রমিক ইউনিয়ন’ (রেজি. নং ঢাক-২২৪০)-এর সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারকে সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০১১ সালে সুব্রত দেবনাথ বিআরটিএতে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে যোগদানের পর বিভিন্ন সার্কেল ও সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সিএনজি অটোরিকশার প্রতিস্থাপন, নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম মেট্রো বিআরটিএতে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মাত্র চার মাসে ২০০৩ ও ২০০৪ মডেলের প্রায় ২ হাজার ৫০০টি সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপ ও প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়।

প্রতিটি গাড়ির বিপরীতে ৩ লাখ টাকা করে নেওয়ার মাধ্যমে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে। এ কাজে শোরুম মালিকদের একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও আনা হয়েছে।

তবে অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের পরিমাণ ও অনিয়মের বিষয়ে স্বাধীন কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে বদলি হয়ে ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২-এ দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ২ হাজার সিএনজি অটোরিকশার প্রতিস্থাপন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতিটি গাড়ির বিপরীতে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের দাবি করা হয়েছে।

একই সময়ে ঢাকা জেলা সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকাকালে প্রায় ৫০০টি সিএনজির নিবন্ধন নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়ার মাধ্যমে আরও প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে উপপরিচালক পদে পদোন্নতির পর সুব্রত দেবনাথ বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে উপপরিচালক (ইঞ্জি.)-৩ হিসেবে আন্তঃজেলা রুট পারমিট-সংক্রান্ত দায়িত্ব পান।

সেখানে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ৪০০টি স্লিপার বাসের রুট পারমিট দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিটি গাড়ির বিপরীতে ৫ লাখ টাকা হিসাবে প্রায় ২০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের দাবি করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সুব্রত দেবনাথকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলি করা হয়। পরে চলতি বছরের জুন মাসে তিনি আবার ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ (উত্তরা)-এর উপপরিচালক পদে যোগ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমান কর্মস্থলেও তাঁর প্রভাব বলয় অক্ষুণ্ন রয়েছে এবং বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগপত্রে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অর্থ অবৈধ পথে ভারতে পাচার করা হয়েছে। ভারতে তাঁর নামে ও বেনামে একাধিক বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকায় তাঁর নামে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট থাকার তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিদেশে অর্থ পাচার, ভারতে সম্পদ এবং দেশে স্থাবর সম্পত্তির বিষয়ে অভিযোগপত্রে যেসব দাবি করা হয়েছে, সেগুলোর স্বাধীন প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে সুব্রত দেবনাথের চাকরিজীবনের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব নথি, ফাইল, নিবন্ধন, রুট পারমিট এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে তাঁর সম্পদ, ব্যাংক লেনদেন এবং দেশ-বিদেশে সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী সংগঠনের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ঢাকা মহানগর অটোরিকশা চালক শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ, বিআরটিএর বিভিন্ন সার্কেলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ অনিয়মের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে সিএনজি অটোরিকশা ও বাস মালিকদের বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি।

তাদের ভাষ্য, এ ধরনের অভিযোগের কারণে পরিবহন খাতে বিআরটিএর সেবা নিয়ে সাধারণ মালিক ও চালকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৌশলী সুব্রত দেবনাথের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগটি নিয়ে দুদক বা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ফল জানানো হয়নি।

এ কারণে অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অর্থের পরিমাণ, সম্পদের তথ্য, বিদেশে অর্থ পাচার এবং বিভিন্ন সময়ে কথিত অনিয়মের বিষয়গুলোকে আপাতত অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তদন্ত ছাড়া এগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, কমিশন না থাকার সময় কিছু কার্যক্রমে ধীরগতি থাকলেও বর্তমান চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিআরটিএ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে জনসংযোগ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানের অনুমতি সাপেক্ষে শিগগিরই বিআরটিএতে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে দায়ের করা নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অভিযোগকারী পক্ষ।

তাদের দাবি, বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর ফাইল, নিবন্ধন ও রুট পারমিটের তথ্য, আর্থিক লেনদেন, সম্পদ বিবরণী এবং চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে সে বিষয়েও যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।