০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

চুনারুঘাটে ১১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর আটক ৩ জনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:২৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২৭

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরি গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে ১১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর তিনজনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনীতি, প্রভাবশালী মহলের চাপ এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

একই সঙ্গে অভিযানে অংশ নেওয়া চুনারুঘাট থানার তৎকালীন এসআই (নিঃ) মো. মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনের ভূমিকা নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পর ওই দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের দেওয়া লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী, এসআই (নিঃ) মো. মাসুম আল মামুন, বিপি-৮৭১৪১৮১৩৭৭, তৎকালীন চুনারুঘাট থানা, বর্তমানে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত এবং সঙ্গীয় কনস্টেবল রুহুল আমিন গত ২৪ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, কালিশিরি এলাকার রাস্তা দিয়ে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে হবিগঞ্জের দিকে যাবেন।

এ বিষয়ে জিডি নং-১৪০০-এর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তারা অভিযানে যান বলে পুলিশের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ সদস্যরা কালিশিরি বাজারের কাছে সাবেক সন্তু চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় অবস্থান নেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি অটোরিকশার গতিরোধ করে সেটিতে থাকা ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করা হয়।

পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, এসআই মাসুম আল মামুন তাঁর সিএনজির কাছে অবস্থান করছিলেন। অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তিদের তল্লাশির সময় একজনের কাছে ইয়াবা থাকার কথা জানানো হলে তিনি সেখানে যান। পরে ছায়েদ মিয়ার কাছ থেকে একটি কালো রঙের জিপারসহ প্যাকেট তাঁর কাছে নিয়ে আসা হয়।

পুলিশের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক কোনো সাক্ষী না থাকায় আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চুনারুঘাট থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মো. ইলিয়াছ হোসেনের উপস্থিতিতে জিপারে থাকা ট্যাবলেট গণনা করা হয়।

গণনা শেষে সেখানে ১১০ পিস কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায় বলে পুলিশ দাবি করেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তৎকালীন ওসি সাইফুল ইসলামকে জানানো হলে তিনি এসআই নারায়ণকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলেও লিখিত বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

তবে এর কিছুক্ষণ পর একদল লোক থানায় গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, বিষয়টি ওসি সাইফুল ইসলামকে জানানো হলে তিনি তখন হবিগঞ্জে ক্রাইম কনফারেন্সে ছিলেন। পরে তিনি থানায় এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একপর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি থানায় অবস্থান নিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পরে আটক তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে তাদের ছাড়ার সিদ্ধান্ত কী প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কি না এবং উদ্ধার করা ১১০ পিস ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ কী নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কালিশিরি গ্রামের মো. ইউনুস আলী (৫০), মো. ছায়েদ আলী ওরফে ছায়েদ মিয়া (৪৫), ইউনুস আলীর মেয়ে জেসমিন আক্তার (২৭/৩২) এবং ছায়েদ মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া আক্তার (৪০) দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, গত ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজিরার কথা বলে তারা সাধারণত যে পথে—রেললাইনের রাস্তা হয়ে আমতলী দিয়ে চুনারুঘাট—যাতায়াত করেন, সেদিন সেই পথ ব্যবহার না করে হঠাৎ রাজার বাজার হয়ে চুনারুঘাটের দিকে রওনা হন। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়েই পথ পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

অভিযানের সময় অটোরিকশা থেকে রোকেয়া আক্তার কৌশলে পালিয়ে যান বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন। অন্যদিকে মো. ছায়েদ আলী, মো. ইউনুস আলী ও জেসমিন আক্তারকে ১১০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশি বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া প্রয়োজন।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোটের সমীকরণ বিবেচনায় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় অবস্থান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের নির্দোষ দাবি করে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য প্রার্থীদের বক্তব্য জানা যায়নি। ফলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনার পর এসআই (নিঃ) মো. মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এতে অভিযানে উদ্ধার করা মাদক নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেই কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো—এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।

অন্যদিকে পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

ঘটনার সঙ্গে কালিশিরি গ্রামের ইয়াকুত মিয়ার পরিবারের সঙ্গে ছায়েদ-ইউনুস পরিবারের পুরোনো বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের দাবি, রাস্তা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান ঘটনাকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, থানা থেকে বিতর্কিতভাবে ছাড়া পাওয়ার পর ছায়েদ-ইউনুস পক্ষ ইয়াকুত মিয়ার পরিবারের ওপর আরও চাপ, অত্যাচার ও জুলুম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ইয়াকুত মিয়ার ব্যবহৃত রাস্তা দখলের পাঁয়তারা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন। দুই পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি ও রাস্তার নথিপত্র পর্যালোচনা না করে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

একটি মাদকবিরোধী অভিযানে ১১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর তিনজনকে আটক করা, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান হলে উদ্ধার হওয়া মাদকের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক প্রভাব কিংবা আসন্ন নির্বাচনের হিসাব যেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব না ফেলে—এ বিষয়েও তারা স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তবে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে পুলিশি নথি, জিডি, উদ্ধার তালিকা, আটক ও মুক্তির নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা।

সর্বাধিক পঠিত

নান্দনিক সাজসজ্জায় দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে মাধবপুরের দুর্গাপ্রতিমা

চুনারুঘাটে ১১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর আটক ৩ জনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট: ০৯:২৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরি গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে ১১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর তিনজনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনীতি, প্রভাবশালী মহলের চাপ এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

একই সঙ্গে অভিযানে অংশ নেওয়া চুনারুঘাট থানার তৎকালীন এসআই (নিঃ) মো. মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনের ভূমিকা নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পর ওই দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের দেওয়া লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী, এসআই (নিঃ) মো. মাসুম আল মামুন, বিপি-৮৭১৪১৮১৩৭৭, তৎকালীন চুনারুঘাট থানা, বর্তমানে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত এবং সঙ্গীয় কনস্টেবল রুহুল আমিন গত ২৪ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, কালিশিরি এলাকার রাস্তা দিয়ে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে হবিগঞ্জের দিকে যাবেন।

এ বিষয়ে জিডি নং-১৪০০-এর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তারা অভিযানে যান বলে পুলিশের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ সদস্যরা কালিশিরি বাজারের কাছে সাবেক সন্তু চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় অবস্থান নেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি অটোরিকশার গতিরোধ করে সেটিতে থাকা ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করা হয়।

পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, এসআই মাসুম আল মামুন তাঁর সিএনজির কাছে অবস্থান করছিলেন। অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তিদের তল্লাশির সময় একজনের কাছে ইয়াবা থাকার কথা জানানো হলে তিনি সেখানে যান। পরে ছায়েদ মিয়ার কাছ থেকে একটি কালো রঙের জিপারসহ প্যাকেট তাঁর কাছে নিয়ে আসা হয়।

পুলিশের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক কোনো সাক্ষী না থাকায় আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চুনারুঘাট থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মো. ইলিয়াছ হোসেনের উপস্থিতিতে জিপারে থাকা ট্যাবলেট গণনা করা হয়।

গণনা শেষে সেখানে ১১০ পিস কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায় বলে পুলিশ দাবি করেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তৎকালীন ওসি সাইফুল ইসলামকে জানানো হলে তিনি এসআই নারায়ণকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলেও লিখিত বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

তবে এর কিছুক্ষণ পর একদল লোক থানায় গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, বিষয়টি ওসি সাইফুল ইসলামকে জানানো হলে তিনি তখন হবিগঞ্জে ক্রাইম কনফারেন্সে ছিলেন। পরে তিনি থানায় এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একপর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি থানায় অবস্থান নিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পরে আটক তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে তাদের ছাড়ার সিদ্ধান্ত কী প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কি না এবং উদ্ধার করা ১১০ পিস ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ কী নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কালিশিরি গ্রামের মো. ইউনুস আলী (৫০), মো. ছায়েদ আলী ওরফে ছায়েদ মিয়া (৪৫), ইউনুস আলীর মেয়ে জেসমিন আক্তার (২৭/৩২) এবং ছায়েদ মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া আক্তার (৪০) দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, গত ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজিরার কথা বলে তারা সাধারণত যে পথে—রেললাইনের রাস্তা হয়ে আমতলী দিয়ে চুনারুঘাট—যাতায়াত করেন, সেদিন সেই পথ ব্যবহার না করে হঠাৎ রাজার বাজার হয়ে চুনারুঘাটের দিকে রওনা হন। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়েই পথ পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

অভিযানের সময় অটোরিকশা থেকে রোকেয়া আক্তার কৌশলে পালিয়ে যান বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন। অন্যদিকে মো. ছায়েদ আলী, মো. ইউনুস আলী ও জেসমিন আক্তারকে ১১০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশি বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া প্রয়োজন।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোটের সমীকরণ বিবেচনায় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় অবস্থান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের নির্দোষ দাবি করে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য প্রার্থীদের বক্তব্য জানা যায়নি। ফলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনার পর এসআই (নিঃ) মো. মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এতে অভিযানে উদ্ধার করা মাদক নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেই কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো—এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।

অন্যদিকে পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

ঘটনার সঙ্গে কালিশিরি গ্রামের ইয়াকুত মিয়ার পরিবারের সঙ্গে ছায়েদ-ইউনুস পরিবারের পুরোনো বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের দাবি, রাস্তা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান ঘটনাকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, থানা থেকে বিতর্কিতভাবে ছাড়া পাওয়ার পর ছায়েদ-ইউনুস পক্ষ ইয়াকুত মিয়ার পরিবারের ওপর আরও চাপ, অত্যাচার ও জুলুম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ইয়াকুত মিয়ার ব্যবহৃত রাস্তা দখলের পাঁয়তারা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন। দুই পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি ও রাস্তার নথিপত্র পর্যালোচনা না করে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

একটি মাদকবিরোধী অভিযানে ১১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর তিনজনকে আটক করা, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান হলে উদ্ধার হওয়া মাদকের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক প্রভাব কিংবা আসন্ন নির্বাচনের হিসাব যেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব না ফেলে—এ বিষয়েও তারা স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তবে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে পুলিশি নথি, জিডি, উদ্ধার তালিকা, আটক ও মুক্তির নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা।