ঢাকার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালালনির্ভরতার অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলাম গাজী (জি এম রফিক) হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এ ঘটনা ঘটে বলে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
থানায় দেওয়া অভিযোগে জি এম রফিক দাবি করেন, তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি সেখানে যান। এ সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার পর একাধিক ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে উত্তেজিত আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ওমেদার আওলাদ ওরফে ব্লেট আওলাদ, সদর রেজিস্ট্রি অফিসের রাসেল ওরফে পটুরাসেল, লম্বু রাসেল ওরফে ইয়াবা রাসেল, তেজগাঁও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার শফীর ব্যক্তিগত চালক কামাল ওরফে মাতাল কামাল, ট্যাবলেট হামিদ এবং পল্লবী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ব্লেট রাজিবসহ কয়েকজনকে হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে সক্রিয় উমেদারদের একটি সংগঠনের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে একই রেজিস্ট্রেশন খাতের খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। আইন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন এবং দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতেন এবং এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন পেয়েছেন।
এ ছাড়া সাভার, টঙ্গী, গাজীপুর, রূপগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগও করা হয়েছে। তার বর্তমান পদায়ন, দায়িত্ব পালনের ধরন এবং সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তবে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) গত ১০ সেপ্টেম্বর লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জি এম রফিকের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ঘটনায় ঢাকায় কর্মরত খুলনা বিভাগের সাংবাদিকদের সংগঠন খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিক ফোরামও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।
সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। হামলার ঘটনায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী রোববারের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।





















