জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন, জবাবদিহি ও বৈষম্যহীনতার দাবি জোরালো হয়েছে। এর মধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির এক কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ব্যাংকের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখের এক অফিস আদেশে (স্মারক নং: প্রকা/পপ্র/ডিজিএম(আইটি)/২০২৬/১৪৪) সহকারী মহাব্যবস্থাপক (আইটি) থেকে উপমহাব্যবস্থাপক (আইটি) পদে পদোন্নতির জন্য সাক্ষাৎকার বোর্ড গঠনের তথ্য রয়েছে। ওই তালিকায় দ্বিতীয় নম্বরে মো. আবু হানিফ নামে এক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। তিনি বর্তমানে বৈদেশিক বাণিজ্য করপোরেট শাখায় কর্মরত বলে জানা গেছে।
নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আবু হানিফের বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও নথি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও দলীয় কর্মসূচিতে আবু হানিফের অংশগ্রহণের ছবি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তৎকালীন ব্যাংক পর্ষদের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।
তবে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কারও উপস্থিতি বা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে ছবি থাকা একাই অনিয়ম কিংবা অপরাধের প্রমাণ নয়। এসব তথ্যের প্রেক্ষাপট ও সত্যতা যাচাই করাও প্রয়োজন।
পদোন্নতির মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন
রূপালী ব্যাংকের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, সততা ও সার্ভিস রেকর্ড বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, আবু হানিফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পদোন্নতির আগে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না।
বিশেষ করে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে সেগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা এবং সার্ভিস রেকর্ড যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর কথা বলা হলেও পুরোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা কোনো কর্মকর্তাকে যথাযথ যাচাই ছাড়াই পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হলে তা প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
আবু হানিফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
একইভাবে রূপালী ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের কাছ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে ব্যাংকের সার্ভিস রেকর্ড, বিভাগীয় তদন্তের নথি, পদোন্নতির মূল্যায়নপত্র এবং সাক্ষাৎকার বোর্ডের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নের অবসান—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।




















